
ফটিকছড়ি উত্তর প্রতিনিধি | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৯
ছবি সংগৃহীত।
চোরাই রাবার উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সাঙ্গুর ফটিকছড়ি উত্তর প্রতিনিধি ও ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি সাংবাদিক আজগর সালেহীকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ভূজপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
জিডিতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলামকে উপজেলার ২ নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ মুন্সিপাড়ার মোহাম্মদ রফিকের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে তাঁকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা বলেও উল্লেখ করা হয়।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ‘ভূজপুরে ১৫ লাখ টাকার রাবার জব্দ, কভার ভ্যানসহ আটক ৩’ শিরোনামে দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিন চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি চোরাই রাবার উদ্ধার করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জাহেদুল ইসলামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ভূজপুর থানায় চুরির মামলা করে। মামলাটির নম্বর ১৭, তারিখ ২০ অক্টোবর ২০২৬।
জিডিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহেদুল ইসলাম, রাসেলসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আজগর সালেহী।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২১ অক্টোবর রাত ১০টা ১২ মিনিট ও ১০টা ১৪ মিনিটে ০১৭৭৭-৪০৭৭৭৭ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হয়। এ সময় তাঁকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, ফোনে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁদের একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নসহ উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় গেলে আজগর সালেহীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরকারবিরোধী ফেস্টুন ও ব্যানারসংবলিত পোস্ট এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের আহ্বানসংক্রান্ত পোস্ট থাকার বিষয়টিও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক আজগর সালেহী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের কারণে এ ধরনের হুমকি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন সাংবাদিক, সংগঠক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, “জিডিটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জমির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
তাঁরা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাহীন পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
