আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিটের ভেতরে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী হামলার রেশ এখনও কাটেনি। এর মাঝেই গোটা ঘটনায় নতুন মোড় নিয়ে এলো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সন্দেহ। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই উড়ানে ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুড়ুল নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মূল পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর। বিমানটি ছিনতাই বা বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিলেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থাতেও অবিশ্বাস্য সাহস দেখিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত, আর এক যাত্রীর তৎপরতায় শেষমেশ পরাস্ত হয় আক্রমণকারী। ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, এই ঘটনার জল যে অনেক দূর গড়িয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিন দিন।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, রহস্য তত ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি দুবাই থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলটকে আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই পাইলট মালদ্বীপের নাগরিক এবং তারা হামলাকারী কো-পাইলটের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন। এমনকি তাদের ওপর ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করার মতো গুরুতর সন্দেহের আঙুল উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মলদ্বীপ বা সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমানে উপস্থিত যাত্রীদের বয়ান। ওই ফ্লাইটের এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী এক গা শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, হামলাকারী কো-পাইলটকে বেঁধে ফেলার পর বিমানের অন্য কেবিন ক্রুরা নাকি সেই বাঁধন আলগা করার চেষ্টা করছিলেন! শুধু তাই নয়, রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম ক্যাপ্টেন স্মিতের মুখে অচেনা এক ধরনের ওষুধ ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যাত্রীদের ভিডিও তুলতে বারবার বাধা দেওয়ার পাশাপাশি রহস্য বাড়িয়েছে আরও একটি বিষয়—সেদিন বিমানের গোটা ক্রু টিমে শুধুই পুরুষ কর্মীরা ডিউটিতে ছিলেন। তবে কি বিমানের ভেতর থেকেই কেউ বা কারা গোপনে সাহায্য করছিল হামলাকারীকে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে ছিল কোনও সুপরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তোলপাড় বিশ্ব বিমান চলাচল ক্ষেত্র।
