কালবেলা · সাধারণ
থানায় গিয়ে নারী এএসআইকে ওসির স্ত্রীর গালাগাল, জিডির পর বদলি
১৮/১০/২০২৬

থানায় ঢুকে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হেনস্থার শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহনাজ আক্তার। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই এএসআই এবং আরেকজন এসআইকে থানা থেকে বদলি করা হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এএসআই শাহনাজ আক্তারের করা জিডির ছবি এসেছে প্রতিবেদকের কাছে। জিডির বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান থানায় এসে এএসআই শাহনাজ আক্তারকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। ওই সময় শাহনাজ থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। সেসময় ওসির স্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং রাতের বেলায় ওসির কক্ষে যাওয়া ও চাকরিতে আসা নিয়ে কটূক্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমাণিত হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন।
জিডিতে আরও একটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত মার্চে তার ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে তিনি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছুটির ব্যবস্থা করতে থানায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে ওসির অর্ডালির মাধ্যমে ছুটির অনুমতির আবেদন করেন। ছুটি থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত আরেক এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী বলেছেন, ‘ওসির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তার সঙ্গে রাত কাটিয়েছে।’
এএসআই শাহনাজ জানিয়েছেন, তখন বিষয়টি নিজের কানে না শোনায় গুরুত্ব দেননি। তবে এবার সামনাসামনি ওসির স্ত্রী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় ভবিষ্যতের প্রয়োজনে তিনি জিডি করেছেন।
এ ব্যাপারে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি বক্তব্য দিতে পারি না। তবে যা শুনেছি ঘটনা সত্যি।’ এছাড়া তিনি নিজেও ওসির দ্বারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিচার দাবি করেন।
এএসআই শাহনাজ আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটা থানার ভেতরের বিষয়, তাই এ ব্যাপারে তেমন কিছু বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন তা সত্যি। এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগ উঠেছে, ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পরপরই এএসআই শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বদলি করে জেলার বানারীপাড়া থানায় নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনকেও অন্য থানায় বদলি করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগৌলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ খান। তার দাবি পুরো ঘটনাই ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, ‘এমন গুজবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমি এখানে ১০ মাস চাকরি করি। আমাকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য কিছু কিছু তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’
জিডি এবং বদলির বিষয়ে ওসি বলেন, এগুলা হচ্ছে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের থানার অভ্যন্তরীণ বিষয় যদি অন্য কারও কাছে যায়, তার মানে কি এইটা একটা সাধারণ নাটক? এইটা যদি আমাদের সিনিয়র অথরিটি জানে, যারা এইটা করতেছে, সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করতেছে, তাদের বিরুদ্ধে তো কঠিন ব্যবস্থা হবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা নিজেদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আভ্যন্তরীণ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তা আমরা করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত আছেন।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗