জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিসহ ৪০টি প্রযুক্তির রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ বা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে চীন। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। খবর এপি।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার যৌথভাবে এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের আওতায় থাকা প্রযুক্তির তালিকা হালনাগাদের কথা বলা হয়। এখানে এআই তৈরির প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, মডেল বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি অন্য দেশে সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপের কথা উল্লেখ আছে।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।’
প্রস্তাবিত তালিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত ২৩টি প্রযুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে উন্নত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও এআই এজেন্টও অন্তর্ভুক্ত। এআই এজেন্ট হলো এমন সফটওয়্যার, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ করতে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবেদনশীল জাতীয় তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেয়া উন্নত এআই মডেলের মূল প্রযুক্তি রফতানি নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি এআই এজেন্টের রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানো ও এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহে বাধার মুখে পড়েছে চীন। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এআই চিপ ও এসব চিপ তৈরির উন্নত যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে দেশটির ওপর।
