নিজস্ব প্রতিবেদক
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রয়োজনে এই আসনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষ পরিবেশ ও ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানান তিনি।
নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপি করা হলে ভোটকেন্দ্র থেকে নির্বাচন অফিস পর্যন্ত ঘেরাও করা হবে। এ সময় কোনো প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অনিয়মে জড়ালে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
প্রতিপক্ষ বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্রঋণ এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা ও বেতন বিতরণের ক্ষেত্রে বিএনপি দুর্নীতি করেছে এবং দলীয় লোকজনকে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। বিএনপির দিন ফুরিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতية তাদের লুটপাট ও ভুয়া ইতিহাস সৃষ্টির অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর জন্য নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও মাওলানা আবদুল হালিম, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

