আজকাল ওয়েবডেস্ক: রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকারের জয়ের পর এবার গেরুয়া শিবিরের জন্য আরও একটি সুখবর এল। মুর্শিদাবাদে বিজেপির বহরমপুর সংগঠনিক জেলার জন্য তৈরি হতে চলেছে নতুন অত্যাধুনিক দলীয় দপ্তর।
আজ, মঙ্গলবার ভূমি পুজোর মধ্যে দিয়ে সেই দলীয় দপ্তরের নির্মাণের কাজ শুরু হল। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন ছাড়াও বিজেপির রাজ্য ও জেলা স্তরের একাধিক নেতা নেত্রী। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী দু'বছরের মধ্যেই বহরমপুরের উপকণ্ঠে ফরাসডাঙা সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির নতুন দলীয় দপ্তর নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই বহরমপুরের পুরনো হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির বহরমপুর সংগঠনিক জেলার মুখ্য কার্যালয়টি রয়েছে। তবে যে ভবনে বিজেপির কার্যালয় রয়েছে সেটি দীর্ঘদিনের পুরনো। বেশ কয়েকবার ভবনটির সংস্কার করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি দলে যোগ দিতে ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার কাজকর্মের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন একটি বড় ভবন তৈরি করার দরকার হয়ে পড়েছিল। রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচনে দলের বড় জয়ের পর তড়িঘড়ি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হল বিজেপির তরফ থেকে।
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, "দলের নীতি অনুসারে দলের কেনা জায়গায় দলীয় ভবন তৈরি করা হবে। তাই আজ বহরমপুরের ফরাসডাঙা এলাকায় দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ভূমিপুজো করা হল। আমরা অন্য কারও জায়গায় অফিস করব না, কারও জায়গায় বসব না।"
তিনি জানান, "ফরাসডাঙায় যে নতুন ভবনটি গড়ে উঠবে সেটি দলের নতুন সাংগঠনিক জেলা কার্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। পুরনো ভবনটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে তা পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত নতুন দলীয় কার্যালয়টি চারতলা হবে। মলয় মহাজন জানান, "নতুন ভবনটি দলের সাংগঠনিক জেলা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার জন্য যে যে পরিকাঠামো থাকার দরকার তা সবই এখানে থাকবে। দলের যে কোনও কার্যকলাপ পরিচালনা করা এবং সংগঠিত করা এই নতুন ভবন থেকে আমাদের পক্ষে সুবিধাজনক হবে।"
বিজেপির বহরমপুর সংগঠনিক জেলা সভাপতি বলেন, "যে বৃহৎ আকারে আমাদের দলীয় কার্যালয় গড়ে উঠবে তা শেষ হতে কমপক্ষে দু'বছর সময় লাগবে। আপাতত নতুন ভবনে চারটি তলা থাকবে। একটি তলায় 'কনফারেন্স হল' থাকবে। অপর একটি তল আমাদের দলীয় নেতৃত্বের থাকার জন্য ব্যবহার করা হবে। তাঁরা সেখানে রাত্রি বাস করতে পারবেন। বাকি দু'টি তলের মধ্যে একটি তল দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি একটি তল বাকি বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে।"
মলয় মহাজন বলেন, "আমাদের দলের অনেক নেতাই স্বপ্ন দেখতেন বহরমপুরে দলের নিজস্ব জমিতে দলীয় অফিস করা হবে। কিন্তু অনেকেই সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। আমার আশা যে ভবন নির্মাণের কাজ আমি শুরু করলাম আগামী দিন আমাদের ভবিষ্যৎ দলীয় নেতৃত্ব এখান থেকেই দলের বাকি কাজকর্ম চালাবেন।"
তিনি আরও বলেন, "যে দলীয় কার্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হল তা শেষ হতে প্রায় দু'বছর লাগবে। তাই আমাদের পুরনো দলীয় অফিসটি দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সদর কার্যালয় হিসেবে কমপক্ষে আরও দু'বছর ব্যবহার করা হবে। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবেন পুরনো ভবনটি দলীয় কার্যালয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা হবে।"
