প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর নির্বিঘ্ন করতে গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা। পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২০ হাজারের বেশি সদস্য নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সও।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল কর্মসূচি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন করে। এ সময় প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগও ব্যবহার করা হয়।
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনসমাগমস্থল ও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত-সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। সফর ঘিরে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুলিশ, প্রশাসন, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর ও জেলাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যক্রম চলছে। পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য এ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত টহল ও পরিদর্শনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ছড়ানো কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি চলছে।
সিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সেখানে পৌঁছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এরপর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।
সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখা, দুর্গাপূজার উৎসবের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সতর্ক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে সিএমপি।
