জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) এক ধরনের অদৃশ্য চাপে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) অস্থিরতা চলছে। এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বেশ কয়েকজনের পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে। ৩৫ জনের এই কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত সাতজন পদত্যাগ করেছেন। তাদের সবাই পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত এবং ব্যস্ততাকে উল্লেখ করেছেন। পদত্যাগের ইচ্ছা জানিয়ে তারা বিওএর কাছে পদত্যাগপত্র জমাও দিয়েছেন। তবে তাদের পদত্যাগ তখনই কার্যকর হবে যখন বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটি সেটা অনুমোদন করবে। আর সেজন্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকতে হবে। সেই বৈঠক এখনো ডাকা হয়নি। এই প্রসঙ্গে বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান জানান, ‘আমরা বেশ কয়েকজনের পদত্যাগপত্র পেয়েছি। এখন গঠনতন্ত্র মোতাবেক এই বিষয়ে আমরা বাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
বিওএতে এই অস্থিরতার মধ্যেই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শেফাউল কবীর সংস্থার কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করার তাগিদ জানিয়ে বিভিন্ন ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে চিঠি দিয়েছেন। তবে তার এই চিঠির বিষয়ে বিওএ মহাসচিব বা কার্যনির্বাহী কমিটির কেউ কোনো কিছুই জানেন না। তারা এই চিঠি সার্কুলার হওয়ার পর অবাক হয়েছেন। বিওএর অফিসিয়াল প্যাডে তিনি এই চিঠি বিভিন্ন ফেডারেশন এবং অ্যাসোসিয়েশনে পাঠিয়েছেন। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি এই চিঠি সার্কুলার করলেন অথচ বিওএর মহাসচিব থেকে শুরু করে কার্যনির্বাহী কমিটির কাউকে তিনি বিষয়টি অবগতও করলেন না। কাউকে আগাম জানানোর বা এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মতামত বা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করলেন না! এমন ঘটনায় বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সদস্য ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। কার্যনির্বাহী কমিটিকে কোনোকিছু না জানিয়ে বা তাদের মতামত/অনুমতি ছাড়া মহাপরিচালক এমন চিঠি ইস্যু করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
জেনে নিই মহাপরিচালক সেই চিঠিতে কি লিখেছিলেন। তিনি লেখেন, গত ১৮ জুলাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে বিধায় নতুন অ্যাডহক কমিটি হতে বিওএর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করা প্রয়োজন। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কার্যক্রমের ওপর বিওএর সপ্তম সাধারণ পরিষদের সভা শিগগির আয়োজন করা হবে। উক্ত সাধারণ পরিষদে আপনার ফেডারেশনের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কাউন্সিলরদের নামীয় তালিকা হালনাগাদ করা অতীব জরুরি।
বিষয়কে মহাপরিচালক অতীব জরুরি বলছেন, অথচ যে কমিটি পুরো বিওএকে পরিচালনা করে, সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সেই বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানে না।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো যে অ্যাডহক কমিটির কাছ থেকে বিওএ মহাপরিচালক কাউন্সিলর হালনাগাদ করতে তালিকা চেয়েছেন ফেডারেশনের সেই কমিটি গঠন করা হয়েছে মূলত সেই সংস্থার নির্বাচনের জন্য। তাদের মেয়াদও মাত্র তিন মাস। তাহলে তারা কেন এবং কোন যুক্তিতে এখন নতুন করে কাউন্সিলরের জন্য নাম দেবেন। নতুন কাউন্সিলর তো ঠিক করবে ফেডারেশনের নতুন নির্বাচিত কমিটি। তাহলে এত তাড়াহুড়ো করে কেন কাউন্সিলর হালনাগাদের জন্য বিওএ মহাপরিচালক চিঠি ইস্যু করলেন। তাও আবার পুরো বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটি এমনকি তার মহাসচিবের কাছ থেকে গোপন রেখে!
বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সংস্থার পরবর্তী বৈঠকে এই প্রশ্নের জবাব খুঁজবেন।
