প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাহিত্য সংগঠন ‘ডেল বুক ক্লাব’-এর উদ্যোগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইসি ক্যাম্পাসের ১০৭ নম্বর কক্ষে বই পর্যালোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষার্থীরা চারজন বিশিষ্ট লেখকের পাঁচটি বই নিয়ে পাঠ-পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে সহকারী অধ্যাপক এ. কে. এম. ফাউজুল কবির তাঁর রচিত বইগুলোর পেছনের ভাবনা ও প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। এরপর কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বই কেবল তথ্যের উৎস নয়; বরং বই মানুষের মনন, চিন্তার জগৎ ও ব্যক্তিসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- Advertisement -
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইংরেজি বিভাগ সব সময় মেধা, মনন ও সৃজনশীল চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। তিনি আরও বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ইংরেজি বিভাগের এ আয়োজন তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
বই পর্যালোচনা পর্বে ডেল বুক ক্লাবের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত বইগুলোর ওপর আলোচনা উপস্থাপন করেন। অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নূর হোছাইন মুকুট অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলমের কাব্যগ্রন্থ ‘পড়ন্ত বিকালের কবিতা শতক’-এর দার্শনিক চেতনা, কবিতার ছন্দ ও জীবনবোধের শৈল্পিক দিক তুলে ধরেন। একই সেমিস্টারের শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা পারমিতা বড়ুয়া অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলমের অনূদিত গ্রন্থ ‘মহুয়া’ নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি অনুবাদের নান্দনিক বৈশিষ্ট্য এবং বিশ্বসাহিত্যে বাংলা লোকঐতিহ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মহুয়া দাশ সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন সিঁথির ভ্রমণকাহিনি ‘কল্পলোকের দেশ স্কটল্যান্ড ও লন্ডন’ পর্যালোচনা করেন। তিনি সাহিত্যের পাশাপাশি ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী জান্নাতুল হাসনা আঁখি সহকারী অধ্যাপক এ. কে. এম. ফাউজুল কবিরের ‘অদৃশ্যের মরমী অর্গান’ বইয়ের আলোকে মানবজীবন, প্রকৃতি ও আত্মিক সম্পর্কের দার্শনিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন। একই সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তাসিন হোসেন সহযোগী অধ্যাপক রুমানা চৌধুরীর মনস্তাত্ত্বিক গ্রন্থ ‘রাত্রিকালীন চিন্তাজাল ১ ও ২’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি মানবসম্পর্কের জটিলতা, নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং সামাজিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ডেল বুক ক্লাবের সমন্বয়ক সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন সিঁথি ও সহযোগী অধ্যাপক রুমানা চৌধুরী আয়োজনের সার্বিক সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন সিঁথি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মৌলিক লেখালেখির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ডেল বুক ক্লাবের এ সাহিত্যিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ জসীম উদ্দীন শিক্ষার্থীদের গভীর পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও সাবলীল উপস্থাপনার প্রশংসা করেন। শিক্ষার্থীদের মননশীলতার বিকাশে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেছা এনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক সৈয়দা সালমা আক্তার, প্রভাষক জাগরণ দে মিল্টন, প্রভাষক মো. মেহেদী রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীরা।
