দেশের অর্থনীতি, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও শিল্প উৎপাদনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব খাতের নীতিনির্ধারণে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে সরকারি পরিসংখ্যান। এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের দায়িত্ব বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের হিসাব নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, প্রকাশে বিলম্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘাটতি নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। পরিসংখ্যানের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত স্বাধীন টাস্কফোর্সের ১২টি সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারি পরিসংখ্যানের প্রতি আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আজ জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস। যদিও শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা নভেম্বরে পালিত হবে।
অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলে ধরতে জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধিসহ কিছু সূচকে অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সে সময়ের মূল্যস্ফীতির প্রকৃত চাপ পরিসংখ্যানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। পুরনো হিসাব পদ্ধতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং বিতর্কিত পরিসংখ্যান পুনর্মূল্যায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সে সংশয় কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিবিএসের পরিসংখ্যান নিয়ে আস্থার সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নেও। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের জানুয়ারির ‘ডেটা অ্যাডিকুয়েসি অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জাতীয় হিসাব বা জিডিপি-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানকে ‘সি’ রেটিং দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা, সাপ্লাই অ্যান্ড ইউজ টেবিল নিয়মিত হালনাগাদ না করা এবং তথ্য প্রকাশে বিলম্বের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান সামগ্রিকভাবে ‘বি’ রেটিং পেলেও এর পরিধি বা ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে দেয়া হয়েছে ‘সি’ রেটিং। সরকারি আর্থিক পরিসংখ্যানের সময়োপযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিক্যাল পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটরসে (এসপিআই) বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭১ দশমিক ৬। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সক্ষমতা, তথ্যের উৎস, প্রাপ্যতা এবং নীতিনির্ধারণে তথ্যের ব্যবহার মূল্যায়ন করে এ সূচক। স্কোরে এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা ও ভারত। অর্থাৎ সরকারি পরিসংখ্যানের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিবিএসের পরিসংখ্যানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও প্রাপ্যতা পর্যালোচনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স ১২টি সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে স্বাধীন পরিসংখ্যান ব্যুরো গঠন, সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে ‘স্ট্যাটিসটিকস বাংলাদেশ’ বা ‘স্ট্যাটবিডি’ করা, সাত সদস্যের ‘ট্রাস্ট অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি কাউন্সিল অব স্ট্যাটিসটিকস’ গঠন এবং পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ সংশোধনের প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি জরিপ পরিচালনা, তথ্যের গুণগত মান, উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহ, জবাবদিহিতা ও মহাপরিচালক নিয়োগ পদ্ধতিতে সংস্কারের বিষয়ও গুরুত্ব পায়। কিন্তু সেই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
টাস্কফোর্সের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে আমরা ১২টি সুপারিশ দিয়েছিলাম। তার মধ্যে জরিপ কীভাবে হতে পারে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মহাপরিচালক নিয়োগের নির্বাচন পদ্ধতি, গুণগত মানের তথ্য, তথ্যের উন্মুক্ত প্রবাহ ও জবাবদিহিতার বিষয় ছিল। এসব প্রস্তাব সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যও হয়েছিল। তবে সেগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিবিএসের সঠিক তথ্যপ্রবাহ ও জরিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে টাস্কফোর্সের সুপারিশগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ কেন আটকে আছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা করা উচিত।’
টাস্কফোর্সের সুপারিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিবিএসের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সংস্থাটির প্রধান হিসেবে একজন পেশাদার পরিসংখ্যানবিদ নিয়োগ। বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডার থেকে মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়ার চর্চা নিয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিএসের কয়েকজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের মতে, স্বাধীন পরিসংখ্যান ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা গেলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হতো।
বিবিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অর্থনীতিবিদ, সাবেক পরিসংখ্যান মহাপরিচালক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। কিন্তু পরে সুপারিশগুলো নিয়ে আর কাজ হয়নি। তথ্য-উপাত্তের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এসব প্রস্তাব কাজে লাগানো যেতে পারে।’
দেশে বিভিন্ন পরিসংখ্যানের বিশ্বাযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, তথ্য সংগ্রহ ও হিসাবের পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা এবং সময়মতো তথ্য প্রকাশ না করার মতো তিনটি বিষয় কাজ করছে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিশেষ করে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিবিএসের পরিসংখ্যানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি কিংবা অন্যান্য সূচকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে ভবিষ্যতে এমন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যায় না।’
জাহিদ হোসেনের মতে, কোনো পরিসংখ্যানের পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ থাকলেই সেটিকে কারসাজি বলা যায় না। তবে পদ্ধতিগত দুর্বলতা থাকলে তথ্যের গুণগত মান ও ব্যবহারযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিসংখ্যানের সময়োপযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগলে নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় এর ব্যবহারিক উপযোগিতা কমে যায়। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে পণ্যভিত্তিক এবং শহর ও গ্রামভিত্তিক দামের বিস্তারিত তথ্য উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোর ইনফ্লেশন বা মূল মূল্যস্ফীতির সূচক প্রকাশ করা হলে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তথ্য প্রকাশের আগে নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল প্রশাসনিক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিবিএসের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। সংস্থাটির নিজস্ব ‘ব্যবহারকারী সন্তুষ্টি জরিপ ২০২৪’-এ দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না। জরিপটি বিবিএস ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় হিসাব বা জিডিপি-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দিহান ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা। আয় ও দারিদ্র্যবিষয়ক পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে সংশয় রয়েছে ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশের। এছাড়া শিল্প, শ্রম ও শিক্ষাবিষয়ক পরিসংখ্যান নিয়েও ২৩ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।
মূল্যস্ফীতির সরকারি হিসাবের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাজার অভিজ্ঞতার পার্থক্যও এ সংশয়ের একটি কারণ। মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কমে যাওয়া। আবার জাতীয় গড় মূল্যস্ফীতি কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা এলাকার বাজারদরের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে পণ্যভিত্তিক দামের বিস্তারিত তথ্য সহজে পাওয়া গেলে সরকারি হিসাবের সঙ্গে বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি তুলনা করা সহজ হবে।
তথ্য সংগ্রহে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহারের কথা জানিয়ে বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই প্রকাশের জন্য ৭৪৯টি পণ্য ও সেবার বিভিন্ন ধরন বিবেচনায় নেয়া হয়। দেশের ৬৪টি জেলা, ছয়টি সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১৫৪টি বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এক্ষেত্রে ৪৬২টি নমুনার তথ্য নেয়া হয়। বাজারভেদে পণ্যের ধরন ও প্রাপ্যতার পার্থক্য থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যা তথ্য পাই, সেটার ওপর ভিত্তি করেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করছি। আরো বাস্তবসম্মত তথ্য দেয়ার জন্য অর্থনীতিবিদ, পরিসংখ্যানবিদ ও গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছি। কমিটি সিপিআই ও ভোক্তা মূল্যসূচক নিয়ে কাজ করবে। সব জায়গা থেকে সঠিক ও বাস্তবসম্মত তথ্য আনা, তথ্যকে সহজলভ্য করা এবং গ্রহণযোগ্য ও সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান; টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’। ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর ২০ অক্টোবর জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে বাংলাদেশে দিবসটি ২৭ ফেব্রুয়ারি পালিত হতো। বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস পাঁচ বছর পরপর পালিত হয়, পরবর্তী দিবস পালিত হবে ২০৩০ সালে।
তবে দিবসটির প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করেন অনেকে। এ অবস্থায় পরিসংখ্যান সংগ্রহের পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, বিস্তারিত উপাত্ত প্রকাশ এবং স্বাধীন যাচাইয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিবিএসের তথ্যের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি তথ্য-উপাত্তকে আরো সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। ভোক্তা মূল্যসূচক, মূল্য ও মজুরি সূচক এবং জিডিপি প্রকাশের পদ্ধতিকে আরো বাস্তবসম্মত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব সূচক ও পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও অগ্রগতির তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়েও কাজ চলছে। তবে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগে তথ্য নির্বাচন বা সিলেকশন প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, যার কারণে সামগ্রিক কার্যক্রম বা পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে অসংগতি দেখা যেত। এখন সেসব জায়গায় সংশোধন আনার চেষ্টা চলছে।’
টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কমিটির সুপারিশগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।’
