October 14, 2026, 11:00 am
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে চাকরি বঞ্চিত হবে বিপুলসংখ্যক তরুণ
Reporter Name
- Update Time : Wednesday, October 14, 2026
- 0 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: আগামী দেড় দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের কর্মসংস্থান নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপি। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ডি ক্রু সম্প্রতি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সতর্ক করে বলেছেন যে, যথাযথ ও কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে এই বিশাল তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ বেকার রয়ে যাবে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভা উপলক্ষে ব্যাংকক থেকে আয়োজিত ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এই বৈশ্বিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। বর্তমান অর্থনৈতিক ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী পনেরো বছরে মাত্র ৪০ কোটি তরুণের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যার ফলে প্রায় ৮০ কোটি তরুণ বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়বেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তরুণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেশি থাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমানে অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই শ্রমবাজার সংকটকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধানের সুযোগ নেই বলে মনে করেন ইউএনডিপির এই কর্মকর্তা। তার মতে, এই পরিস্থিতি মূলত নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সঠিক কর্মসংস্থানমুখী কাঠামোর ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। তরুণদের কাজের সুযোগ বাড়াতে এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে ইউএনডিপি ইতিমধ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকসেলারেটর’ এবং ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’ নামের দুটি যুগান্তকারী উদ্যোগ চালু করেছে। প্রথম উদ্যোগটির মাধ্যমে সরকারগুলোকে বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং সঠিক প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করা হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় উদ্যোগটি বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতার উন্নয়ন এবং নিয়োগকর্তাদের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে কাজ করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ডি ক্রু জানান যে, সক্রিয় শ্রমনীতির মাধ্যমে ভবিষ্যতের এই আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস ইতিবাচক ধারায় রূপান্তর করা সম্ভব। প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও কৃষি, পর্যটন এবং পরিচর্যা খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ থেকেই যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যে নেপাল, হাইতি, লেবাননসহ বেশ কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এর সাথে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
বর্তমান সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো একসঙ্গে জ্বালানির চড়া দাম, তীব্র আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধের চাপের মতো ত্রিবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউএনডিপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর সরকারকে তাদের মোট আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কেবল ঋণের সুদ মেটানোর পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক নানা সংকটের কারণে বহু বছর পর বিশ্বে নতুন করে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে আংশিক স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও সব দেশ সমানভাবে এর সুফল পাচ্ছে না, ফলে নতুন কোনো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানো দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হলে এখনই সমন্বিত বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসা প্রসারণমুখী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


