কুষ্টিয়ায় ১০ কেজি চাল, এক কেজি মাংস ও সয়াবিন তেল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শ্রমিক, ভিক্ষুক ও অসচ্ছল নারী পুরুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের কাছ থেকে এসব সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
পরে দুপুর ২টায় খাদ্যসামগ্রী নিতে স্লিপ নিয়ে গোরস্থানে গিয়েও ওই ব্যক্তির দেখা পাননি তারা। ভুক্তভোগীরা জানান, খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করে প্রতি মাসে সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেও তাদের বিশ্বাস অর্জন করা হয়। পরে মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে ওই ব্যক্তি চলে যান। এ ঘটনায় অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কথা বলে কয়েকটি কবর পরিষ্কার করানো হয়। এ কাজে গোরস্থানের শ্রমিকদের যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সেখানে বসে থাকা ভিক্ষুক ও অসচ্ছল ব্যক্তিদেরও চাল, মাংস ও তেল দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় প্রত্যেককে একটি করে লাল ও সাদা রঙের স্লিপ দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাদের বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে স্লিপ নিয়ে এলে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
আবার কিছু ব্যক্তিকে অনলাইনে আবেদন করে মাসিক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়। এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার আশায় অনেকে নিজেদের বা স্বজনদের মোবাইল ফোন এনে দেন। কিন্তু দুপুর ২টায় স্লিপ নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হয়ে কাউকে পাননি তারা। পরে বুঝতে পারেন, সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। গোরস্থানের এক খাদেম বলেন, আমাদের এক কেজি মাংস, ১০ কেজি চাল ও এক বোতল তেল দেওয়ার কথা বলে।
একটি করে স্লিপ দিয়ে আমাদের মোবাইল ফোন, সিম ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে চলে গেছে। আমরা গরিব মানুষ। সহায়তা দেওয়ার কথা বলে সব নিয়ে চলে গেছে। ভুক্তভোগী ফরিদা বলেন, গত বুধবার দুপুর দুইটায় স্লিপ নিয়ে যেতে বলেছিল। চাল, এক কেজি মাংস ও তেল দেওয়ার কথা ছিল। মাংস রান্না করে খেতে বলেছিল, বিক্রি করতে নিষেধ করেছিল। আমরা সেই আশায় ছিলাম। এখন আমাদের মোবাইল নিয়ে চলে গেছে। আমরা চাই, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। আরেক ভুক্তভোগী কাশেম বলেন, আমার কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড, দুই কপি ছবি, মোবাইল ফোন ও সিম নিয়েছে।
চাল, মাংস ও তেল দেওয়ার কথা বলে মোবাইল নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারিত ব্যক্তিদের মধ্যে গোরস্থানের শ্রমিক, ভিক্ষুক, অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাদের অনেকেই খাদ্য সহায়তা পাওয়ার আশায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ও মোবাইল ফোন ওই অপরিচিত ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় আমাদেরকে কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিআলো/অর্নব