সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চোখের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, শুধু দীর্ঘদিন বেঁচে থাকাই নয়, কত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চোখের যত্নে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদেরও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চোখের স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। চোখের সমস্যা অনেক সময় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, পড়াশোনা ও কর্মক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই চোখের রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
ভিশন স্প্রিং ও গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাজিদা ফাউন্ডেশন এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্পে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ৩৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা প্রদান, ছানি রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। এ ছাড়া বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক।
বক্তারা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মানুষ চোখের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
এমএ
