পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে টিএসএমসির নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৭৪ হাজার ৬৩০ কোটি তাইওয়ানিজ ডলারে পৌঁছতে পারে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ছে। এতে বাড়ছে চিপের চাহিদাও। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেকর্ড মুনাফা করতে যাচ্ছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। বিশ্বের বৃহত্তম উন্নত চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফা করতে পারে বলে প্রত্যাশা বিশ্লেষকদের। খবর রয়টার্স।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে টিএসএমসির নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৭৪ হাজার ৬৩০ কোটি তাইওয়ানিজ ডলারে পৌঁছতে পারে। ডলারের হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। ১৬ জন বিশ্লেষকের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ হিসাব করেছে আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি।
পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে টিএসএমসির ত্রৈমাসিক মুনাফায় নতুন রেকর্ড তৈরি হবে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তৃতীয় প্রান্তিকের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ আয়ও কোম্পানিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। এসব অবকাঠামোয় ব্যবহৃত উন্নত চিপের বড় সরবরাহকারী টিএসএমসি। এনভিডিয়া ও অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য চিপ তৈরি করে কোম্পানিটি।
বিশ্লেষকদের মতে, টিএসএমসির উন্নত চিপ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্যাকেজিং প্রযুক্তির চাহিদা এখন বেশ শক্তিশালী।
বিশেষ করে তিন ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপের চাহিদা কোম্পানিটির আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষক চার্লি চ্যান বলেন, ‘এ চাহিদার কারণে চলতি বছরের আয় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াতে পারে টিএসএমসি। বর্তমানে পুরো বছরের আয় ৪০ শতাংশের বেশি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানিটি।’
এদিকে বাজারমূল্যের দিক থেকেও টিএসএমসি এশিয়ার শীর্ষ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার, যা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রায় দ্বিগুণ।
চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রেও বড় বিনিয়োগ করছে টিএসএমসি। দেশটির অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে কারখানা নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ পরিকল্পনার পরিমাণ ২৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে ঘোষিত অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগও রয়েছে।
