প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের উদ্যোগে সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবাকে মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে এ উদ্যোগ। প্রচলিত ব্যবস্থায় একজন সেবা গ্রহীতাকে তার কাক্সিক্ষত নাগরিক সেবা পেতে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক ছিল। আবেদন দাখিল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, ফি পরিশোধ এবং সনদ সংগ্রহসহ সবকিছুই হতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। একটি সেবা গ্রহণের জন্য একাধিকবার যাতায়াতের প্রয়োজন হতো। ফলে ব্যয় হতো অতিরিক্ত অর্থ ও সময়। কখনো কখনো এর সঙ্গে যোগ হতো অযাচিত ভোগান্তি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, নাগরিকের যাতায়াত, সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি কমিয়ে সেবাকে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি নাগরিক সেবা মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করে শুরু হয় পাইলট কার্যক্রম। সফল পাইলটিং শেষে অবশিষ্ট ১৪ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আয়োজন করা হয় তিনটি সেবা বিশ্লেষণ কর্মশালা। এতে সংশ্লিষ্ট ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। কর্মশালায় ৬৩ ধরনের নাগরিক সেবা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে ডিজিটালাইজেশনের জন্য ১৯টি মৌলিক সেবা চিহ্নিত করা হয়। এসব সেবার বিপরীতে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের জন্য তৈরি করা হয় ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম। পরবর্তী সময়ে, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে সাতটি অঞ্চলভিত্তিক ভ্যালিডেশন কর্মশালার মাধ্যমে অনলাইন আবেদন ফরম, সেবা ফি, সেবার কার্যপ্রবাহ এবং টেমপ্লেট যাচাই ও চূড়ান্ত করা হয়। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারসহ মোট ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।