ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ছোঁয়াচে রোগ হাম। উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেটা ও উপসর্গের পরিসংখ্যান। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল হামের উপসর্গ নিয়েই আরও ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে শুধু হামের উপসর্গ নিয়েই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে!
অন্যদিকে, ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১০৪ জন। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। দেশে সংক্রামক ব্যাধির এই চোখরাঙানি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
বিভাগওয়ারী মৃত্যুর হিসাব: শীর্ষে ঢাকা, দ্বিতীয় অবস্থানে সিলেট
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গে প্রাণহানির ঘটনায় সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে।
- ঢাকা বিভাগ: সর্বোচ্চ ৪৯১ জনের মৃত্যু নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
- সিলেট বিভাগ: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এই অঞ্চলে।
- অন্যান্য বিভাগ: এছাড়া চট্টগ্রামে ১০০, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৪, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫০ এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছেন।
একদিনে সহস্রাধিক হাসপাতালে! কেমন চলছে বর্তমান আক্রান্তের অবস্থা? (গভীর বিশ্লেষণ)
পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির হার দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। বুলেটিনের তথ্যমতে:
নতুন রোগী: মাত্র একদিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ হাজার ২৫৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৩২ জনকেই সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
নতুন শনাক্ত: ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ জনের শরীরে সরাসরি হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিভাগীয় ভর্তির চিত্র: একদিনে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭৬ জন, চট্টগ্রামে ২১৬, সিলেটে ১১১১, বরিশালে ১০৭, খুলনায় ৭৫, ময়মনসিংহে ৭৩, রংপুরে ৪২ ও রাজশাহীতে ৩২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম ও এর উপসর্গের রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জনে। স্বস্তির বিষয় হলো, তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সব মিলিয়ে দেশে মোট উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে, যার মধ্যে ২৩ হাজার ১২২ জনের শরীরে ল্যাব টেস্টে হাম শনাক্ত হয়েছে।
মূল শঙ্কা কোথায়? কেন অধরা আসল চিত্র?
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গভিত্তিক নিয়মিত হিসাব রাখতে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল সংখ্যার বাইরেও হয়তো আরও বহু রোগী রয়ে গেছেন।
হাসপাতালে আসা কিংবা এর বাইরে থাকা সব রোগীর ল্যাব পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। ফলে সরকারি খাতায় হাম শনাক্তের যে সংখ্যা দেখা যাচ্ছে, বাস্তব আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্যই এই বুলেটিনে স্থান পায়।
আমাদের করণীয় ও সচেতনতা
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা তৈরি করে। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জ্বর, ফুসকুড়ি বা প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::দেশে হামে মৃত্যু ১২০০ ছুঁইছুঁই, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের করুণ পরিণতি first appeared on DesheBideshe.