বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সেন্ট্রাল কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৭০০১ নং কক্ষে অবস্থিত এ ল্যাবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা, টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. আহসান হাবীব, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাসুম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইভিনিং প্রোগ্রামের এমবিএ ইন টেক্সটাইলস প্রগ্রামের তহবিল থেকে ল্যাবটি নির্মান করা হয়েছে। ল্যাবটি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ল্যাবটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হবে এবং বিভাগটির ডীন ও বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ল্যাবটি ব্যাবহার করতে পারবে। ভবিষ্যতে ল্যাবটিতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ইন্সটল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন,”এই সেন্ট্রাল কম্পিউটার ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে। একাডেমিক কোর্সের পাশাপাশি গবেষণার কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ইন্সটলেশনের ফলে তা শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট বা পাবলিকেশনে কাজে আসবে।” পাশাপাশি ল্যাবটিতে থাকা কম্পিউটারগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারে সচেতন থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের আহবান জানান তিনি।
টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, ” ল্যাবের সকল কম্পিউটার আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেমে চলছে। প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও প্রোডাক্ট মেইন্টেনেন্সে সহায়ক এমন সফটওয়্যার আমরা সংযোজন করবো। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও যাতে এই ল্যাব ব্যবহারে সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।”
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাসুম বলেন,”নতুন কম্পিউটার ল্যাবটিতে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত ক্লাসের বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত জনবলনির্ভর ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে কার্ডভিত্তিক অ্যাক্সেস কন্ট্রোলের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবসম্পদের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে।”
ল্যাবটি স্থাপনের সময় নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ল্যাবটি স্থাপনের প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মূলত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জন্য একটি ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবেদন করেছিলেন। তবে ক্রয়প্রক্রিয়া, কারিগরি স্পেসিফিকেশন যাচাই এবং সরঞ্জাম গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে তিনি যুক্ত ছিলেন না।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, “বুটেক্সের সেন্ট্রাল কম্পিউটার ল্যাবটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনা ও উচ্চশিক্ষার কাজে এটি ব্যবহার করতে পারবে। ফলে তারা বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন ও নেটওয়ার্কিয়ের সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে জনবল থাকা সাপেক্ষে এরকম আরও কয়েকটি কম্পিউটার ল্যাব নির্মাণের প্রত্যাশা করছি যা তাদের একাডেমিক পড়াশোনায় সহায়তা করবে। এতে শিক্ষার্থীরা লাভবান হবে বলে মনে করি।”
সেন্ট্রাল কম্পিউটার ল্যাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। টেক্সটাইল ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেন জানান, ” উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কাজে কম্পিউটারগুলো যথাপুযুক্ত নয় বলে আমি মনে করি। প্রতিটি কম্পিউটার ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি রম এই কনফিগারেশনে আছে যা যথেষ্ট নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এই উদ্যোগ প্রসংশনীয়।”
এছাড়াও কম্পিউটার ল্যাবটি পরিদর্শনকালে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের সংখ্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাহিদা পূরণে এর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কম্পিউটারগুলোর সবিস্তার বিবরণী দেখে উচ্চ কার্যক্ষম সফটওয়্যারগুলো অনায়াসে চলতে পারবে কিনা তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
