কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল জেলেপাড়ায় সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শেষরাতে ঘটা এই সর্বগ্রাসী আগুনে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৬৫ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল জানান, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হঠাৎ দিদার জলদাসের বাড়িতে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার পাশাপাশি স্থানীয়রা আগুন নেভানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তবে বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ও স্থানীয়দের দীর্ঘ দুই ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে দিদার দাস, চন্দ্র সেন, ইমালুন্দ, সিংহ জলদাস, প্রেমদাস, বিকল দাস, মধু রানী, সোহান দাস, সকাল দাস, মুরলী দাস, মুরপী দাস, জিসাস দাস, সরীপ দাস, রনী দাস, ধলু, সিধাম, রুবেল, মেঘদাস, দীপারানী, রূপাল দাস, সবুজ দাস, পবিরন দাস, বুইশ্যা, অজিত, শুনু দাস, কালাগুচু, বাবুল দাস, মুন্নাবরণ, টুট্টন দাস, ওরাসেন, রুবান দাস, সুধাংশু ও ভাবতীর ঘরবাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন পবিরন দাসের স্ত্রী নয়ন দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের জন্য ঋণ হিসেবে তোলা ১ লাখ টাকা তারা ঘরে রেখেছিলেন। আকস্মিক এই আগুনে সেই নগদ টাকাসহ তার স্বামীর ডিগ্রির মূল সনদপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তারা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার সোহেল আহমেদ জানান, জেলেপাড়ার কাঁচাপাকা ঘরগুলোতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রান্নাঘরের চুলা থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার কামাল সিকদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাธেই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরগুলো এক সারিতে ও অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার কারণে আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং ৩২ থেকে ৩৩টি ঘর পুড়ে যায়। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।
