বিশেষ শর্তে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা ফার এ ছাড় দিয়ে ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সংশোধন এনেছে সরকার।
বুধবার ২০২২-৩৫ মেয়াদের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ড্যাপের এ সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন সংশোধনীতে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বা ফার এ ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি ড্যাপের আওতাধীন নির্দিষ্ট কিছু মৌজায় ‘ওপেন স্পেস’ থেকে ‘ভারি শিল্প’ এলাকায় পরিবর্তন এবং জলস্রোত ‘ওভারলে’ জোন সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের ২৪ অগাস্ট নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিছু জায়গায় ছাড় দিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তাতে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লক-ভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোরও সুযোগও বাড়ে। ভবন নির্মাণে সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়।
এরপরও এ পরিকল্পনায় সংশোধন আনতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা বিভিন্ন সময় ড্যাপ সংশোধনের দাবি জানাতে থাকেন।
বুধবার আবারও ড্যাপ সংশোধন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ৫ কাঠা বা এর বেশি আয়তনের আবাসিক প্লটের ক্ষেত্রে বর্তমান ফার এর সঙ্গে আরও দশমিক ৫ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশেস এ প্রণোদনা পেতে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য রাজউকে আবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রণোদনার শর্ত হিসেবে গেজেটে বলা হয়েছে, প্রণোদনা পাওয়া প্লটে চূড়ান্ত নির্মাণ অনুমোদন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে ‘প্লিন্থ লেভেল’ পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। এই শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে জরিমানা হিসেবে নকশা অনুমোদনের জন্য প্রদত্ত ফি-এর ২০ গুণ অর্থ রাজউকের অনুকূলে প্রদান করতে হবে।
ড্যাপের সংশোধনীতে আইলবহর মৌজার মহানগর ১০৪৭, ১০৪৮ ও ১০৫০ দাগের প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার 'ওপেন স্পেস' থেকে পরিবর্তন করে শর্ত সাপেক্ষে 'ভারি শিল্প এলাকা' হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শর্তাবলীতে বলা হয়েছে, আবেদন করা ভূমি বুড়িগঙ্গা নদীর 'ফোর সোর' সংলগ্ন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে।
এছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকেও অনাপত্তি বা মতামত গ্রহণ করতে হবে। সিটি জরিপ রেকর্ডের পর্চায় 'হালট' শ্রেণি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করতে হবে এবং নির্মাণ করা সব ভবনে সংশ্লিষ্ট বিধি ও কোড অনুসরণ করে রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রে ড্যাপের অনুমোদনযোগ্য ভূমি ব্যবহার এবং জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনার মধ্যে কোনো ভিন্নতা বা সাংঘর্ষিক অবস্থা দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গেজেটে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (পর্চায় উল্লিখিত খাল, ক্যানেল, পুকুর, রাস্তা বা চলার পথ, জলাশয় ইত্যাদি) ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনার পরিবর্তে ড্যাপের প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার নির্দেশনা অনুযায়ী অকুপেন্সি টাইপ নির্ধারিত হবে।
এছাড়া অনুমোদিত আবাসিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লে-আউটের ভূমি ব্যবহারের নির্দেশনার আলোকে এটি নির্ধারিত হবে।
আবার সংশোধন হচ্ছে ড্যাপ, ‘বাড়ছে’ ফার
ড্যাপ বাতিলের দাবিতে রাজউক ঘেরাও
ছাড় দিয়ে আবার ড্যাপ সংশোধন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশ
