
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জে শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের চলমান উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।
শনিবার জকিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সড়কটির নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে আলোচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে উপজেলা এলজিইডিকে নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে এলজিইডি কার্যালয় অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
সড়কটির নির্মাণকাজের ঠিকাদার বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজমীর শরীফুল ইসলামের বক্তব্য নিশ্চিত করে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান সড়কটির নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল বাছিত বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সড়কটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।
স্থানীয় চিকিৎসক ডা. তাজ উদ্দিন বলেন, উন্নয়নকাজের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপকার নিশ্চিত করা। সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাজের মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হলে মানুষের আস্থা বাড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে নির্মাণকাজের মান যাচাই করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
