ভৈরব, আতাই, মজুদখালী নদীবেষ্টিত খুলনার দিঘলিয়া একটি দ্বীপ জনপদ। এ জনপদের মানুষের সুচিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন বহির্বিভাগে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। গত মাসে জেলার সর্বোচ্চ ১৪ সহস্রাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বলে স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের ছাদ, বীম থেকে কংক্রিট দুর্বল হয়ে গেছে। রডে মরিচা ধরে খুলে পড়ছে। করিডোরের কলামসহ বিভিন্ন স্থানের কলামে ক্র্যাক দেখা দিয়েছে। কার্নিশের কংক্রিটগুলো খুলে পড়ছে। ভবনের দোতলায় পুরুষ এবং মহিলা ওয়ার্ডের ছাদ এবং বীমের কংক্রিট ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। মেঝেতে ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্তূপ পড়ে আছে। ছাদে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। আকস্মিক ওয়ার্ড দুটি ধসে/ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি ইউনিটের কক্ষটিও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। নিচ তলার পরীক্ষাগার কক্ষটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এটির কার্যক্রম সরিয়ে নেয়া হয়েছে অন্যত্র। কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ভয় এবং আতঙ্কের মধ্য দায়িত্ব পালন করছেন। আতঙ্কে থাকেন ভর্তিকৃত রোগী এবং তাদের স্বজনরা।
এদিকে ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খুলনা সিভিল সার্জন বরাবর আবেদন করেছে। বেশ কয়েক বছর আগে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পরিদর্শন শেষেও ভবনটির কয়েকটি কক্ষ, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে ব্যবহার না করার জন্য মতামত ব্যক্ত করেন।
ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য সম্প্রতি খুলনা সিভিল সার্জন বরাবর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহাবুবুল আলম আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি ১৯৮২ সালে নির্মিত। অতি পুরাতন হওয়ায় বর্তমানে অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ফলে যে-কোনো সময়ে ভেঙে/ধসে পড়তে পারে। ভবনটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার রুম, ডক্টরস রুম, ইমারজেন্সি ইউনিট, অফিস রুম, ল্যাবরেটরি রুমসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুম রয়েছে। কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সেবাদান কার্যক্রমে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় ইৎরপশং ঈযরঢ়ং দারা ৪০ বছর পূর্বে নির্মিত পুরাতন ভবনটি ভূমিকম্প সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিদল ভবনটি পরিদর্শন শেষে বাস্তব চিত্রের প্রেক্ষাপটে একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করেন। এমতাবস্থায় ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে কনডেমেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
খুলনা গেজেটকে তিনি বলেন, ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি ৪৫ বছর আগে নির্মিত। খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য অনতিবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
খুলনা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শওকত আলী বলেন, সব উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলো জরিপ হয়েছে। দুটি ধাপে ১০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। দিঘলিয়া উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স প্রথম ধাপে আছে কিনা স্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে এখনো জানানো হয়নি। পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়টি আমার জানা নেই। সিভিল সার্জন স্যার এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
খুলনা গেজেট/এনএম
