রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর জন্য ১০-৩০ কাউন্টের কটন বা তুলার সুতা আমদানির সুবিধা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা চিঠি দেওয়ার পর বিটিএমএ পাল্টা দাবি তুলেছে।
এই সুতা আমদানিতে যে কড়াকড়ি আরোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ‘সদয় বিবেচনা’ চায় টেক্সটাইল শিল্প মালিকদের এ সংগঠনটি।
দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রাজস্ব সুরক্ষা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় তারা এ দাবি তুলেছে বলে রোববার বিটিএমএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএমএ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, ১০–৩০ কাউন্ট, অর্থাৎ আনুমানিক ১৬.৯৩–৫০.৮০ মেট্রিক কাউন্ট কটন সুতার ক্ষেত্রে প্রচলিত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বাস্তবসম্মত নীতিকাঠামো: নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি হিসেবে ডব্লিউটিওর বিধান, রুলস অফ অরিজিন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে টু-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সংক্রান্ত শর্ত বিবেচনায় নিয়ে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য পর্যায়ক্রমে ন্যূনতম ৪০-৬০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন অর্জনের উপযোগী নীতিকাঠামো প্রণয়ন করা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় সুতা আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে এনবিআর।
নতুন বিধান অনুযায়ী, বন্ড সুবিধার আওতায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানা প্রয়োজনে ব্যাংক গ্যারান্টি সাপেক্ষে এ সুতা আমদানি করতে পারবে।
এ সিদ্ধান্তকে তখন স্বাগত জানায় টেক্সটাইল শিল্প মালিকদের সংগঠন-বিটিএমএ। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।
আদেশ জারির ছয়দিনের মাথায় সিদ্ধান্তটি স্থগিত করার জন্য এনবিআরকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
১৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ চিঠি দিলেও এনবিআর এখনো সাড়া দেয়নি।
সবশেষ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহায়তা চান তারা।
সংগঠন দুটির দাবি, সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য একটি সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশি ক্রেতারা ভারত ও মিসরের মতো দেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থানান্তর করছে বলে সংগঠনগুলোর ভাষ্য।
এর পাল্টায় রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএমএ তাদের দাবি তুলে ধরল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের অর্থ সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয় এবং নতুন কোনো শুল্ক আরোপও নয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আদেশে নতুন কোনো শুল্ক বা কর আরোপ না করে শুধুমাত্র প্রযোজ্য শুল্ক বা করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।”
ভারত ও মিসরে ক্রয়াদেশ চলে যাওয়া প্রসঙ্গে সংগঠনটির ভাষ্য, “দেশীয় সুতার মূল্যবৃদ্ধি কিংবা ভারত ও মিসরসহ প্রতিযোগী দেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থানান্তরসংক্রান্ত দাবিগুলো নির্ভরযোগ্য ও তুলনাযোগ্য তথ্য দিয়ে যাচাই করা জরুরি।”
বিটিএমএ বলছে, দেশীয় ও আমদানিকৃত সমজাতীয় সুতা কেনার প্রকৃত খরচ নির্ধারণে পণ্যের মান ও বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, প্রযোজ্য শুল্ক-কর, ব্যাংক মাশুল, অর্থায়ন ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনায় আনতে হবে।
তারা বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু সুতার মূল্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; উৎপাদনশীলতা, মান, প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক কারখানার সক্ষমতা, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
“তাই যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া একটি নীতিগত সিদ্ধান্তকে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন হবে না।”
