দেশ থেকে মাওবাদী হিংসা ইতিমধ্যে নির্মূল করা হয়েছে এবং এবার এর শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলতে হবে। বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসক হিসাবে ২৫ বছর পূর্তির অঙ্গ হিসাবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় ছত্তিশগড়ের নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কেবলমাত্র নকশালবাদ নির্মূল করাই যথেষ্ট নয়। নকশালবাদের জেরে গত পাঁচ দশকের দুর্ভোগের স্মৃতি চট করে মুছে যাবে না। কিন্তু আমাদের এর প্রতিটি চিহ্নও মুছে ফেলতে হবে এবং বস্তারকে ফের একটি সুখী, শান্ত ও প্রাণবন্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরীহ আদিবাসী ও সাধারণ মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়াকে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছত্তিশগড় সরকারের ‘নিয়াদ নেল্লানার’ প্রকল্প, ‘বস্তার অলিম্পিক’ এবং ‘বস্তার পাণ্ডুম’-এর মতো উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে তিনি জানান, যেখানে আগে বন্দুকের গুলি আর বোমার আওয়াজ শোনা যেত, সেখানে এখন আদিবাসী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে।
বস্তুত অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর একপ্রকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার কাজটা করেছেন। এ বছর ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্র বেঁধে দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার পর থেকেই মাওবাদী-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করে নিরাপত্তাবাহিনী। ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানায় কার্যত নির্মূল করে দেওয়া হয়েছে মাও নেটওয়ার্ক। এখন দেশের কোনও প্রান্তেই সেভাবে মাওবাদীদের স্বর শোনা যায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার এই ‘দেশবিরোধী’দের চিহ্নও মুছে ফেলতে চাইছেন।
