কম দুধ দিচ্ছে গরু। এই অভিযোগ তুলে সটান থানায় হাজির হলেন যুবক। অভিযোগ না নেওয়া পর্যন্ত কিছুতেই থানা ছাড়বেন না তিনি। নাছোরবান্দা গো-পালক। এদিকে যুবকের কথা শুনে মাথায় হাত পুলিশকর্মীদের। সোমবার এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ।
ওই যুবকের নাম লক্ষ্মণ যাদব। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গো-পালনও করেন। গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুধ বিক্রি করেন তিনি। সোমবার থানায় হাজির হয়ে লক্ষ্মণের অদ্ভু অভিযোগ শুনে চমকে ওঠেন গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ। থানার পুলিশকর্মীরা মূলত, চুরি, ডাকাতি, খুন, শ্লীলতাহানি, মারপিটের অভিযোগ শুনতেই অভ্য়স্ত। এদিন গো-পালকের এই অভিযোগ শুনে থ হয়ে যান তাঁরা।
লক্ষ্মণের অভিযোগ, সদর ব্লকের উপরডাঙা গ্রামের এক বাসিন্দার কাছ থেকে দিন ১৫ আগে একটি গরু কেনেন তিনি। গরুটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। গরু কিনতে মোট ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়। কেনার সময় বিক্রেতা জানান, দিনে ৮-১০ লিটার দুধ দেয় গরুটি। কিন্তু প্রসবের পরে দেখা যায় গরু মাত্র ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে। এরপরেই থানার দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লক্ষ্মণ।
পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, গরুটি কিনে আনার পর যত্নেই প্রতিপালন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব খাবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ৮-১০ লিটারের পরিবর্তে মাত্র ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে গরুটি। এর একটা সমাধার করার জন্য পুলিশের কাছে আর্জি জানান লক্ষ্মণ। তাঁকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সমস্যার সমাধান না হলে বাড়ি যেতে অস্বীকার করেন তিনি। এরপর বাধ্য হয়ে বিক্রেতাকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষের আলোচনা হয়। আলোচনার পর বিক্রেতা ২ হাজার টাকা লক্ষ্মণকে ফেরত দিতে রাজি হন। সেই টাকা পাওয়ার পরই বাড়ি ফেরেন লক্ষ্মণ। গো-পালকের দাবি মেটাতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যায় পুলিশের।
