পুজোর আগে ছ’বছরের মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় কাটোয়ার পাঁচঘড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এনিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন মৃত শিশুর বাবা। উল্লেখ্য, মৃতের বাবা নিজেও কলকাতা পুলিশে কর্মরত।
অভিযোগ, ঘরের দরজা বন্ধ করে মেয়েকে খুন করার পরে তিন মাসের ছেলেকেও খুনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত মহিলা। পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। মঙ্গলবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে মৃত শিশুর দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে।
৭ বছর আগে পূর্বস্থলীর ছাতনির বাসিন্দা মৌপ্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় কলকাতা পুলিশে কর্মরত পুষ্পেন্দু দামের। পুষ্পেন্দুর বাড়ি কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে। ঘটনার সময়ে তিনি কলকাতার কর্মস্থলে ছিলেন। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের আগে গত ছ’মাস ধরে মৌপ্রিয়া কাটোয়ার পাঁচঘড়ায় মামার বাড়িতে ছিলেন। সেখানেই এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মৃত শিশুর দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত মহিলাকে চিকিৎসার জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
মৌপ্রিয়ার মামা দেবীপ্রসাদ মণ্ডল অবশ্য জানান, তাঁর ভাগ্নির মানসিক সমস্যা ছিল। চিকিৎসাও চলছিল। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আট মাস আগে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন মৌপ্রিয়া। তবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা তাঁরা আঁচ করতে পারেননি। পুষ্পেন্দু বলেন, “স্ত্রীর মানসিক সমস্যা ছিল বলে ওর বাপের বাড়ির লোকজন বলছেন। কিন্তু তাই বলে নিজের সন্তানকে কেউ এভাবে মেরে ফেলবে, এটা হয় না। আমি ওর শাস্তি চাই।” ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
