ম্যাচের আগে এমনটা কে ভেবেছিল! শুরুর বাঁশির কিছুক্ষণের মধ্যেই অসাধারণ নৈপুণ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জালে বল জড়ালেন নিকো পাহ। পরে আরেকটি দারুণ গোল করলেন তিনি, সতীর্থের গোলেও রাখলেন অবদান। পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো কিছুই করতে পারল না ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল কোমো।
ঘরের মাঠে বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। নিকো পাহর দারুণ পারফরম্যান্সের ম্যাচে একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন তার সতীর্থ আনাস্তাসিওস দুভিকাস ও ইয়াকোবো রামোন।
নামের ভারে দুই দলের মাঝের ব্যবধান পাহাড়সম বললেও যেন কম বলা হয়। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে দেখা মিলল এর উল্টো চিত্র। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল দখল ও আক্রমণ, সবক্ষেত্রে ছড়ি ঘোরাল কোমো। তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো তেমন কিছুই করতে পারল না তিনবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধে নিজেদের খুঁজে ফেরা ইউনাইটেড শেষদিকে কিছুটা আক্রমণে জোর দেয়। পুরো ম্যাচের হিসেবে প্রতিপক্ষের চেয়ে গোলের জন্য তারা বেশি শটও নেয়; কিন্তু লড়াইয়ে কখনোই প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি তারা। কোমো ১১টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে, আর ইউনাইটেডের ১৩ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে আরও অনেক দলের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ষষ্ঠ স্থানে আছে কোমো। তাদের ওপরেই আছে বার্সেলোনা। আর জয়ে আসর শুরুর পর টানা দুই ম্যাচ হারল ইউনাইটেড, ৩ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে আছে তারা।
ভীষণ বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে পথচলা ইউনাইটেডকে শুরুতেই চমৎকার গোলে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় কোমো। ডান দিকে সতীর্থের ছোট পাস ডি-বক্সের মুখে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, শরীরটা ঘুরিয়ে দ্বিতীয় টোকায় জায়গা বানিয়ে, তৃতীয় ছোঁয়ায় জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন নিকো পাহ।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের এটাই প্রথম গোল।
গোল হজমের পরও ইউনাইটেডের খেলায় কোনো মরিয়া ভাব দেখা যায়নি, বরং বেশিরভাগ সময় পজেশন রেখে তাদের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে কোমো। ৩৫তম মিনিটে ভালো পজিশনে বল পেয় দুভিকাস লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিলে আরও পিছিয়ে পড়া থেকে বেঁচে যায় ইউনাইটেড।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় কোমো। সোজাসুজি শাণানো আক্রমণে নিকো পাহর থ্রু পাস ডি-বক্সে ধরে উঁচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন দুভিকাস।
আট মিনিট পর তৃতীয় গোল হজম করে ইউনাইটেডের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আরও ফিকে হয়ে পড়ে। মাঝমাঠের কাছে প্রতিপক্ষের ভুলে বল পেয়ে গতিতে টিলেমান্সকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে, কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন নিকো পাহ।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২ বছর বয়সি তারকার গোল হলো চারটি।
৭৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে জয়টা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন রামোন। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রসে হেডে গোলটি করেন স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাক।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ইউনাইটেডের সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন ডাচ ফরোয়ার্ড ইয়োশুয়া জির্কজি।
ক্লাবের প্রায় ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে এসে অভিষেক ম্যাচে লাইপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় কোমো। সেই জয়ের পর দলটির কোচ সেস ফাব্রেগাস বলেছিলেন, ১০ বছর পরও তাদের এই জয় নিয়ে কথা হবে।
তাদের ঐতিহাসিক সাফল্যগাঁথায় এবার যোগ হলো আরেকটি স্মরণীয় জয়, প্রতিপক্ষের নামের বিচারে সেই জয়ের চেয়েও এর মাহাত্ম্য আরও বেশি।
