Published on
:
2 min read
এই সময়: হলফনামা সংগ্রহের দৌড়েও এ বার অনিয়মের অভিযোগ তুলল কালীঘাট তৃণমূল।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'জোড়াফুল' প্রতীক আপাতত ফ্রিজ় করে রেখেছে।
সুপ্রিম কোর্ট গত সেপ্টেম্বরে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেয় সর্বোচ্চ আদালত। তৃণমূলের দু'পক্ষ ইতিমধ্যেই নথি ও হলফনামা তৈরির কাজে নেমে পড়েছে। দুই শিবিরের ব্যাখ্যা, এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে তাঁরা কোন শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন। সাংগঠনিক নেতৃত্ব বলতে ব্লক সভাপতি, ওয়ার্ড সভাপতি, টাউন সভাপতি, জেলা সভাপতি, জেলা কমিটির সদস্য থেকে রাজ্য কমিটি ও জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যদের বোঝায়। আর জনপ্রতিনিধি বলতে সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলার, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের সদস্যরা।
এই হলফনামা জোগাড় করার ক্ষেত্রে অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে পুলিশ সাহায্য করছে বলে মমতা তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মুখ্য সচিবকে পাঠানো মেলে দোলা লিখেছেন, 'জেলাশাসকরা স্ট্যাম্প পেপার ভেন্ডারদের অলিখিত নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রায় ২৫ হাজার স্ট্যাম্প পেপার ইস্যু করতে। ওগুলো স্থানীয় থানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। এই ধরনের নির্দেশ সম্পূর্ণ বেআইনি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে সাহায্য করার জন্য এটা করা হচ্ছে।'
অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের সিপিকে দেওয়া দোলার চিঠিতে বলা হয়েছে, 'তৃণমূলের সদস্য নয় এমন ব্যক্তিদের থেকে প্রত্যেক আইসি এবং ওসিকে ১১০০ বেশি হলফনামা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায় গোষ্ঠীর পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে হলফনামায় সই সংগ্রহ করছে।'
মমতা তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলেও এই অভিযোগ করেছেন। যদিও মমতা তৃণমূলের অভিযোগকে 'পাগলের প্রলাপ' বলে উড়িয়ে দিয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল। ঋতব্রতর কথায়, 'ওঁরা জানেন কমিশনে নথি জমা দিতে পারবেন না। তাই এ সব বলছেন। সমর্থকদের দিয়েও হলফনামা করাতে পারছে না। অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে। ক্ষমাও চাইতে হবে। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি।'
মমতা তৃণমূল পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে তার জন্য রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ করা উচিত বলেও মনে করছেন ঋতব্রত— 'আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করব। মনে হয় দুর্গাপুজোর সময়ে বড় কোনও অরাজকতা তৈরির এটা প্ল্যান।' গণতান্ত্রিক তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁরা সমস্ত নথি ও হলফনামা প্রস্তুত করছেন। সব কমিশনে জমা পড়বে। অরূপ রায়ের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
দোলার চিঠি প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, 'নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা। ভোটে হেরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তৃণমূল খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গিয়েছে। নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। ওঁদের এই কোন্দলে বিজেপি সরকার বা দলের কোনও ভূমিকা নেই।'
