রোহিত হোসেন রনি ও শামীম আহমেদ টিটো
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত তিন তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী এলাকার শামীম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (১৮), যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলাম জয় (১৮) ও একই এলাকার রোহান (১৯)। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরও দুই তরুণ যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলা কবরস্থানে নিহত রোহান ও আরিফুল ইসলাম জয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাঁদের দাফন করা হয়। দুই তরুণের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রোহানের জীবন ছিল শৈশব থেকেই সংগ্রামের। মাত্র সাত বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। এরপর ১৩ বছর বয়সে হারান বাবাকেও। মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত রোহান বড় হয়েছেন বড় ভাই রাব্বীর আশ্রয় ও যত্নে। ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা রোহান একটি ফার্মেসিতে কাজ করতেন। জীবিকার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ১৯ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবন।
অন্যদিকে, নিহত আরিফুল ইসলাম জয় মাত্র ছয় মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। নবদাম্পত্য জীবনের শুরুতেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছে পরিবার। যে সংসারকে ঘিরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন জয়, সেই সংসারে নেমে এসেছে শোক।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের নতুনহাট মোড় পার হয়ে বড় মেঘলা এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সিয়াম হোসেন এবং তাঁর দুই বন্ধু ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত একই মোটরসাইকেলে মণ্ডলগাতী এলাকা থেকে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন। নতুনহাট মোড় পার হয়ে বড় মেঘলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে দুই মোটরসাইকেলের পাঁচ আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সিয়াম হোসেন বেনাপোলগামী মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। অপর মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন রোহান ও আরিফুল ইসলাম জয়।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক (১৭) এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান রিফাত (১৭)। তাঁরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেল দুটি হলো যশোর ল-১২-৭৭৩৪ নম্বরের একটি পালসার এবং নড়াইল ল-১১-১৭৩৬ নম্বরের একটি হোন্ডা হরনেট।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করে। প্রথমে সিয়ামের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। অপর একজনের কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে আরিফুল ইসলাম জয়, পিতা শহিদুল ইসলাম এবং ঠিকানা পিয়ারী মোহন রোড, বেজপাড়া, শংকরপুর, যশোর উল্লেখ ছিল। পরবর্তী সময়ে নিহত অপর তরুণের পরিচয় রোহান হিসেবে জানা যায়।
শুক্রবার রাতের ওই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তিন তরুণের প্রাণ। শনিবার পাশাপাশি কবরে রোহান ও জয়কে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাঁদের জীবনের পথচলা। আর স্বজনদের কাছে রয়ে গেল অকাল হারানোর বেদনা।
