আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্গী হামলা থেকে বাঁচতে একসময় বাড়িতে বাড়িতে লাঠি রাখার রেওয়াজ তৈরি হয় বীরভূমের কৃষ্ণনগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। শতাব্দী প্রাচীন সেই রীতি ঘিরেই আজও বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগর গ্রামে বিজয়া দশমীর পরের দিন অর্থাৎ একাদশীর দিন বসে ঐতিহ্যবাহী লাঠির মেলা। মেলা মূলত দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, তবে লাঠি কেনাবেচাই ঐতিহ্য এই মেলার। মেলা শুরু হয় দুপুর থেকে চলে রাত্রি পর্যন্ত। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রচুর পুলিশ মোতায়নও করা হয় মেলা প্রাঙ্গনে। এছাড়াও সঙ্গে থাকে যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেলা কমিটির নজরদারিও।
দুবরাজপুর ব্লকের যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগর গ্রামের একদিনের এই সম্প্রীতির মেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ থাকে চরমে। দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়েই, নানা ধরনের লাঠি নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা। দুবরাজপুরের যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লাহোগ্রাম, যশপুর, পছিয়াড়া, কান্তোড়, সালুঞ্চি সহ বিভিন্ন গ্রাম এলাকার ১০-১২টি দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য জমায়েত হয় কৃষ্ণনগর মেলা প্রাঙ্গণে। সম্প্রীতির মেলায় মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। শতাব্দী প্রাচীন লাঠি মেলা বা সম্প্রীতির মেলা পরিচালনা করে যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।
শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এই লাঠির মেলা। বর্তমান সমাজে সেভাবে লাঠির প্রচলন না থাকলেও, ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির মেলা দেখতে এবং লাঠি কিনতে আজও দুরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।
