Published on
:
2 min read
এই সময়, ডোমজুড়: পুজোর ছুটির জন্য কাজ বন্ধ ছিল। তাই ছয় বন্ধু মিলে মন্দারমণি সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে যান দু’জন। তাঁদের একজনের দেহ উদ্ধার হলেও অন্যজনের এখনও খোঁজ মেলেনি। তাঁরা সম্পর্কে শ্যালক ও ভগ্নিপতি। দু’জনেই হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সমুদ্র সৈকতে শ্যালক শাহিল খানের (২২) দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর জামাইবাবু শাহিদ আলম (২৪) এখনও নিখোঁজ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার দশমীর দিন মহম্মদ শাহিদ তাঁর শ্যালক মহম্মদ শাহিলকে সঙ্গে নিয়ে আরও কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে মন্দারমণি বেড়াতে যান। তাঁদের সঙ্গে আরও ৫টি পরিবার ছিল। শাহিদ ও শাহিলের এক বন্ধু মহম্মদ চাঁদও তাঁর পরিবার নিয়ে মন্দারমণি গিয়েছিলেন। চাঁদের মা রেহানা বেগম শুক্রবার জানিয়েছেন, মন্দারমণি ঘুরে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা দিঘায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ছেলে মন্দারমণিতেই থেকে যায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খবর নেওয়ার জন্য ছেলেকে ফোন করেছিলেন তিনি। তখনই তাঁর কাছ থেকে দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন। সবার চোখের সামনে দু’জনে তলিয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ মন্দারমণির ১ ও ২ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ঢেউয়ের ধাক্কা সামলাতে না পেরেই দুই যুবক তলিয়ে যান।
নুলিয়া ও স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। সেই খবর পেয়ে হোটেল থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাকি বন্ধুরা। খবর পাওয়া মাত্রই রাতেই মন্দারমণি পৌঁছে যায় দুই পরিবারের লোকজন। শাহিলের এক প্রতিবেশী শাহজাহান খান বলেন, ‘এক বছর আগে শাহিদের বিয়ে হয়েছিল। এমন ঘটনা কী ভাবে ঘটল, বুঝতে পারছি না।’ ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) মোহিত মোল্লা বলেন, ‘তলিয়ে যাওয়া দুই যুবকের একজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ এক জন। উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহিদ ও শাহিল, দু’জনেই দর্জির কাজ করতেন। বুধবার ভোরে তাঁরা মন্দারমণির উদ্দেশে রওনা দেন। আর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা নাগাদ মন্দারমণিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের তদারকিতে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। এক জনের দেহ মিললেও আরও এক জনের খোঁজ মেলেনি। এই খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, দু’জনই পরিবারের উপার্জনশীল সদস্য ছিলেন। তাঁদেরকে হারিয়ে অথৈ জলে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা।
