যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। সংসার চালাতে কয়েক মাস আগে সমিতি থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি চার্জার ভ্যান কেনেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানোয় আঁধার নেমে আসে তার জীবনে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন তিনি।
অসহায় রুহুল আমিনের ভ্যান চুরির হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে কুয়েত প্রবাসী মো. আমানুল্লাহ সোহাগ এবং কাস্তা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম ও গোলাম মোস্তফার। বিদেশের মাটিতে থাকলেও সহমর্মিতার টানে রুহুল আমিনের কষ্টের গভীরভাবে অনুভব করেন প্রবাসী এই রেমিট্যান্স-যোদ্ধা।
এরপর তারা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন রুহুল আমিনের দিকে। পরে তাদের ও স্থানীয় গ্রামবাসীর যৌথ সহযোগিতায় রুহুল আমিনের জন্য একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান তৈরি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এনামুল হাসানের মাধ্যমে রুহুল আমিনের কাছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন ভ্যানটি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় নতুন ভ্যানটি পেয়ে তিনি আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রুহুল আমিন বলেন, ‘এই মহানুভবতায় আমি আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস পেলাম। এই বিপদের দিনে আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাস্তা গ্রামের কৃতী সন্তান মো. জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম মোস্তফা এবং কুয়েত প্রবাসী মো. আমানুল্লাহ সোহাগ ভাইয়ের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।
