জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি কয়েকটি চিরকুট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা রেখে গেছেন।
এসব লেখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, শিক্ষক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা উঠে এসেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে আট দফা দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল থেকে মোহাইমিনুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তার হলের কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায়।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার কিছু বার্তাও প্রশাসনের নজরে আসে। এসব লেখায় ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবন নিয়ে হতাশার পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সহপাঠীরা মোহাইমিনুলের সন্ধান এবং তার অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে তাঁরা বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করা, শিক্ষকদের অবহেলার অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং মোহাইমিনুলের জিএস-৪০৪ কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নসহ অন্যান্য দাবি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বন্ধু ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে চেষ্টা চালানোর কথা বললেও শিক্ষার্থীরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না। মোহাইমিনুলকে খুঁজে পাওয়া এবং আট দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের ফটকের তালা খোলা হবে না বলেও জানান তিনি।
ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘এখনও কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। তাঁকে উদ্ধারের সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং তাঁর বাবার সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), স্থানীয় থানা ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত উপায়ে তাঁর সন্ধানে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও ঢাকায় একাধিক দল পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
এদিকে, মোহাইমিনুলের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
