- দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ হাজার ৪০৮ জন দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার হন।
- প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১২ লাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এ ছাড়া পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ আহত হন। এসব দুর্ঘটনায় অনেকেই গুরুতর আঘাতের শিকার হন এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন।
আজ বিশ্ব ট্রমা দিবস। সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়। পথ দুর্ঘটনা, আগুন লাগা, পুড়ে যাওয়া, হিংস্রতা, নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন। এরকম বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত মানুষের চিকিৎসা ও সেবায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই দিবসটি পালন করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হলেও বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে এর আয়োজন এখনো সীমিত। বিশ্ব ট্রমা দিবসের মূল লক্ষ্য শুধু দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা নয়, বরং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ হাজার ২৩৩ জনে। দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি ও গুরুতর আঘাতের কারণে প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। অথচ মহাসড়কের পাশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ২৪টি ট্রমা সেন্টারের অধিকাংশই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে কার্যকর নয়।
- সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে নির্মাণ করা হয়েছিল ২৪টি ট্রমা সেন্টার। এসব কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণে দুই দফায় ব্যয় হয়েছে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা। কোথাও সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগের সেবা চলছে, কোথাও ভবন ব্যবহৃত হচ্ছে অন্য কাজে। জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে অধিকাংশ কেন্দ্রই কার্যত অকার্যকর।
বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি।
‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা জরিপ ২০২২-২৩’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন ধরনের আঘাতজনিত কারণে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং পড়ে গিয়ে প্রাণহানির মতো চারটি কারণে প্রতিদিন গড়ে ২১১ জনের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঘাতজনিত মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ট্রমা সেন্টার, সমন্বিত জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা, অ্যাম্বুল্যান্স সেবা ও পুনর্বাসনকেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি।
পাশাপাশি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ, হেলমেটের মান উন্নয়ন, গতিসীমা কার্যকর করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন। নিরাপদ সড়ক ও উন্নত জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
