
মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি: | শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩২
ছবি সংগৃহীত।
চোরাগুপ্তা পিকেটিং, টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেওয়া ও রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ চলছে খাগড়াছড়ি জেলায়। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যান চলাচল। সাজেকে সড়ক অবরোধ চলাকালে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয়।
শনিবার সকাল থেকে অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়িতে চোরাগুপ্তা পিকেটিং হলেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সড়ক। সড়কে টায়ার জ্বালানোর চেষ্টা করলেও পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রশাসনের উপস্থিতির কারণে তেমন সক্রিয় হতে পারেনি অবরোধকারীরা।
খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সব রুটে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল তুলনামূলক কম। অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস এলাকা ও উপজেলার রেড স্কয়ারে টায়ারে আগুন দেয় পিকেটাররা।
এ সময় সড়কের ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অবস্থান ত্যাগ করে পিকেটাররা। এছাড়া খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের বাইল্ল্যাছড়ি, পানছড়ি সড়ক ও সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাঠের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন দিয়ে পথরোধ করে অবরোধকারীরা।
তবে সকালে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল টিম কাজ করছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, “অবরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ। শহরের চেঙ্গী স্কয়ার, স্বনির্ভর, জিরো মাইল, আলুটিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম মাঠে টহল দিচ্ছে।”
থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ামকে ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি: | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫১

ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় সরকারি সফরে এসেছেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আলী নেওয়াজ খৈয়াম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে থানচিতে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন।
সরকারি সফরকালে প্রতিমন্ত্রীর পরিবার থানচি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করবে। আগামী ২৪ অক্টোবর বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর বান্দরবান ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বান্দরবানের থানচি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। সরকারি এই সফরে প্রতিমন্ত্রীর পর্যটন স্পট পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর সফরকালে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকাগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি কিংবা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করার কথা রয়েছে।
সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা দেবে ৩৮ বিজিবি

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি: | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৪

ছবি সংগৃহীত।
সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা জানাতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বলিপাড়া জোন। নারী ফুটবলারদের সাফল্যকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী। নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইডল মং, খেয়া, রাজীব, মেরি ও নাদিয়া আরফিন মৌরিসহ অন্যান্য শিল্পীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় থানচি মাল্টিপারপাস টাউন হলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যকে উৎসাহিত করা, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার আগ্রহ বাড়ানো এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদার করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নারী ফুটবলারদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে অন্য নারীদেরও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পার্বত্য বান্দরবানের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে খেলাধুলা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। সেই বিবেচনায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বলিপাড়া জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক।
আয়োজকরা আশা করছেন, নারী ফুটবলারদের সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এ আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রুমায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

মংহাইথুই মারমা, বান্দরবান প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১২

ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের রুমায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নেয়ামুল নাসির সিদ্দিকী।
গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে যুবকেরা মোবাইল ফোন মেরামতের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সনদ এবং উপহারসামগ্রী তুলে দেন। প্রশিক্ষণে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ২ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি প্রধান অতিথি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীরের ক্যাপ্টেন আবুল বাশার মো. শাকিল শিপু, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, মো. ইদ্রিস মিয়া, রুমা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অংবাচিং মারমা, কোষাধ্যক্ষ উবাসিং মারমা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ পাহাড়ি অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
