অবশ্যই শুধুমাত্র গুরুত্বই কোন কিছুর অগ্রাধিকার নির্ধারক নয়, সবসময়। সময়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বা সময়ে, বদলে যায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অনেক কিছুরই গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দুটোই; তা তো দেখেছিই। যে পথিক নেমেছে পথে, হাঁটাই তার গুরুত্বপূর্ণ কর্ম হলেও, পথিমধ্যে হঠাৎ দেখা পাওয়া কোন বুনো ফুল পেয়ে যেতে পারে, তার কাছে ঐ মুহূর্তেই অগ্রাধিকার। ফলে থামতেই পারে সে, কিছুক্ষণের জন্যেও, এগুবার গুরুত্ব বাদ দিয়ে। বাহ, এ কি দার্শনিক ভাবনা নাকি? দুই দিনের বৈরাগী ভাতেরে অন্ন বলার, হল এ কোন সাধ আমার! মিসকিন হিসাবে অনেকমাস মরুবাসের পর, দিন তিনেক আগের দুপুরে সহকর্মী ফাহাদ আল হিন্দির কল্যাণে, মরুগ্রামের মজলিসে গ্রামের শেখের কাছ থেকে অভাবিত সম্মান পেয়ে, মাথা কি তবে বিগড়েই গেল নাকি? ধরা কে সরা জ্ঞান করার এ কোন বালখিল্যতায় পেয়ে বসেছে তবে? যাচ্ছি তো দেশে।মনে মনে গাওয়া উচিৎ এখন আমার, ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।’ কারণ অন্তত বছরটা শেষ করতে পারছি বউ বাচ্চা পরিবারের সাথে, দেশের মাটিতে। দেখা হবে বন্ধু শুভানুধ্যায়ীদের সাথে। হবে আড্ডা জম্পেশ। এ সবই অতীব কাঙ্ক্িষত ও আনন্দের বিষয়। তারপরও কেন, বেহুদা কেন বদহজম ঘটাচ্ছে, দার্শনিক ভাবনা? ঐ বিষয়ের বুজি আমি কোন ঘণ্টাটা? না, অবিমিশ্র আনন্দ বলতে আসলে কিছুই নাই এই জগতে। দূর, ফের দেখছি পড়েছি কোন এক উটকো দার্শনিক ভূতের পাল্লায়। দিলাম মুখে তার ছাই। এই যে যাচ্ছি দেশে, তা কিন্তু ছুটি কাটাতে নয়। যদিও বৎসরের শেষদিকে, ছুটি আমি নিতেই পারি, কিন্তু তা তো নেই নি। ভেবেছি বরং রথ দেখতে দেখতে কলা বেঁচবো। ছুটি নিয়ে দেশে যাবার কী দরকার? এমনিতেই তো ঢাকায় গিয়ে দিতে হবে ধন্না সৌদি এম্বেসিতে, নতুন ভিসার জন্য। ইকামা যে এখনো হয় নাই আমার। অন্যদিকে শেষ হয়েছে এবারের ভিসার মেয়াদ।
চ্যালেঞ্জ হল, আগামী আড়াই তিন সপ্তাহের মধ্যে নিতে হবে কমপক্ষে তিন তিনটা ভিসা। দরকার যদিও ছিল চারটা ভিসার। কিন্তু ঐ যে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় একটাকে একটু আগে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দিয়েছি ফেলে, এ মুহূর্তের অপ্রয়োজনীয় লিস্টিতে। নিতে হবে তাই এখন তিনটা ভিসাই। অর্থাৎ বছর শেষের এই ঢাকা গমন পরিণত হয়েছে তাই ভিসাঅভিযানেই। একটু খোলাসাই করা যাক ঘটনা।
এবারের সৌদি বিজনেস ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, আগামীকাল মানে ২৮ শে ডিসেম্বর ২০০৯। গত নয় দশ মাসে আমার ইকামার কোনই সুরাহা হয় নাই। অন্যদিকে সৌদি এসাইনমেন্টের মেয়াদ আছে আরো, ২ বছরেরও অধিক। ফলে আবারো আমাকে বিজনেস ভিজিট ভিসার জন্যই ধন্না দিতে হবে ঢাকার সৌদি এম্বেসিতে। এ হল সহজ সরল সমীকরণ এবং এটিই হল আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্য করনীয় মানে, ফরজে আইন জাতীয় বিষয়। তারপর এবারই প্রয়োজন হল মালয়েশিয়ার ভিসার। বছরের মাঝামাঝিতে দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী, বছরের ব্যবসার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায়, সৌদি সেলস মার্কেটিং টিমের তিনশর মতো সহকর্মী যাচ্ছেন লাংকাভিতে। উপলক্ষ বাৎসরিক সেলস মার্কেটিং কনফারেন্স। আসছে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হবে তিন দিনের ঐ কনফারেন্স। সেখানে অধমের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ভিসাটিও নিতে হবে ঢাকা থেকে, এরই মধ্যে। এ মিটিংয়ে অংশ নেওয়াও একদম অবশ্য করনীয় বিষয়ের পর্যায়েই পড়ে, দুই কারণে। প্রথমত, এতে নতুন বছর মাথায় রেখে ব্যবসার স্ট্রাটেজিক দিকনির্দেশনা যেমন দিতে হবে আমাকেই, তেমনি সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় ট্যাক্টিকাল প্লান, রোল আউটও করবে এতে আমারই টিম। দ্বিতীয়ত, প্রায় এক বছরের কাছাকাছি হয়ে গেল, সৌদি এসাইনমেন্ট, কিন্তু এখন পর্যন্ত গোটা টিম আমাকে দেখেনি সরাসরি। আমিও হতে পারিনি একসঙ্গে তাদের মুখোমুখি। কারণ ঐ ইকামা ভিসা জটিলতায়। অতএব, বস চান না কিছুতেই, এই মিটিং মিস করি। তৃতীয় যে ভিসাটি নিতে হবে, তা হল লন্ডনের। এ ব্যাপারে নিজেরই আগ্রহ তুমুল। যেহেতু এখন পর্যন্ত ঐ শহরটি দেখা হয়নি। তবে এটিকে একদম অবশ্য করণীয় বা ফরজে আইন ধরা যাচ্ছে না। কারণ ঐটি হল গ্লোবাল মিটিং। সৌদি এসাইনমেন্টে যোগ দেবার পর থেকে, ভিসা জটিলতার কারণে গত এক বছর, কোন গ্লোবাল ও রিজিওনাল মিটিংয়ে যেতে পারিনি, তা নিয়ে মনে যে আমার অবশ্যই কিছু খেদ আছে, সেটি সম্ভবত ফিল আঁচ করেছেন। এজন্যই, যদিও মিটিং হবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে, সেই ভিসাটিও এর মধ্যেই নিয়ে রাখার নেওয়ার মত দিয়েছেন বস। চতুর্থ যে ভিসাটিকে নিতান্তই নফল ধরে নিয়ে, বাতিল করে দিয়েছিলাম একটু আগে, দুবাই এয়ারপোর্টে বসে, যদি আমি নিজের পেশাগত উন্নতির ব্যাপারটাই মুখ্য মনে করতে পারতাম, তবে এটিই হতো আসলে আমার ১ নম্বরের ফরজে আইন কর্ম। অথচ বেকুব আমি সেটিকে একদম নফল বিবেচনা করে দিয়েছি ফেলে বাতিলের খাতায়। বুদ্ধিমানরা একথা শুনলে, নির্ঘাত বলবে আহাম্মক আমি, মারলাম কী রকম নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল!
ঘটনার শুরু, মাস দেড়েক আগে। আচমকাই পেয়েছিলাম ই মেইল, আরবিন্দ পণ্ডিতের। নাহ, ঐ পণ্ডিত কোথায় পণ্ডিতি করেন, জানতাম না আমি তা। এমনকি চিনতামও না তাঁকে। যেহেতু পণ্ডিত বাবু আমাদের কোম্পানির কেউ না। সেই মেইলের সাব্জেক্ট লাইনে, জরুরি, গুরুত্বপূর্ণ, একশন নিডেড, জ্বল জ্বল করতে থাকায়ে, অচেনা পণ্ডিতের মেইলটি খুলেছিলাম তড়িঘড়ি। সেটি পড়ে, ব্যাপারটি হজম করার চেষ্টা করছিলাম যখন, তখনি এসেছিল জরুরি ডাক ফিলের।
সাথে সাথেই বসের রুমে গিয়ে উঁকি দিতেই, ধোঁয়ার চাদরের ওপাশ থেকে গম গমে কণ্ঠে ভেসে এসেছিল– ‘কনগ্র্যাটস বাডি। ইউ গট দ্য ট্রেইন। এবার উইঠা পড়। নিশ্চিত আমি তুমি অবলীলায় পৌছাইয়া যাইবা গন্তব্যে।’ আনন্দ উত্তেজনায় পরদিনই বিষয়টি জানিয়েছিলাম, আমার মেন্টর তাইওয়ানের কান্ট্রি হেড অ্যালেক্স চ্যাংকে। মতামত তারও ছিল ফিলেরই অনুরূপ। যদিও অরবিন্দ নিজেই তার মেইলে নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়েছিল, ফিল ও আলেক্স আরকেটু বিশদভাবে জানিয়েছিল, আমাদের গ্লোবাল মানবসম্পদ বিভাগের ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, বেশ কিছুকাল ধরেই, বিখ্যাত কিছু কন্সালটেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে, কোম্পানির নানান দেশে নানান পদে থাকা ট্যালেন্টেদের খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মোতাবেক ঐ কন্সাল্টেন্টদের কাজ হল, ঐ ট্যালেন্ট দের সাথে যোগাযোগ করে, তাদেরকে পরবর্তী পদের জন্য পরীক্ষা নেয়ার। তাদের মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানি প্রয়োজনে করাবে ট্রেনিং। অতঃপর কোন এক মাহেন্দ্রক্ষণে নেবে সিদ্ধান্ত, কোম্পানি। সব শুনে মনে হয়েছিল, হায়রে এই জনমে কী আর পরীক্ষা দেওয়া শেষ হবে না, এ অধমের? পরীক্ষা মানেই তো হল, আছে তাতে পাশ ফেলের ব্যাপার। ঐদিকে ফিল আর অ্যালেক্স কি না এক্কেবারে সুনিশ্চিত, এই বৈতরণী পার হয়ে যাবো আমি নাকি হেসে খেলে! যতোই তাঁরা আমাকে সাহস দিন না কেন, বিশ্বখ্যাত ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট কোম্পানি, হে গ্রুপের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দিল্লি অফিসের প্রধান, পণ্ডিত বাবুর চিঠি পড়ে, শুরুতে মহানন্দে আমি হাসলেও, অচিরেই বুঝেছি ওটা ছিল আমার সেই হাসি, যে রকম হাসে বোকারা প্রথমে কোন কিছু না বুঝেই। কিন্তু সহসাই সামান্য যে বুদ্ধি আছে ঘটে অধমের, তা নড়ে চড়ে উঠতেই, গিয়েছিল হাসি উবে। উল্টো গিয়েছিলাম ঘাবড়ে।
ফিলের মতে ট্রেন পাঠানোর যে প্রস্তাব এসেছে, পণ্ডিত বাবুর চিঠিতে, তাতে তো উঠতে হবে আমাকে যাত্রী হিসেবে নয় বরং চালক হিসেবেই। অর্থাৎ এ হল ড্রাইভার হিসাবে আমার নিজেরই ড্রাইভিং পরীক্ষা দেয়া। নিয়ত ফায়ার ফাইটিং জাতীয় যতোরকম ঝামেলায় আছি সৌদিতে, সেখানে এই ড্রাইভিঙয়ে মনোনিবেশ করবো কিভাবে?
এদিকে উপায়ও তো নাই আর! যদি বলি, না চালাবো না ট্রেন, তবে যাবে সবই মাঠে মারা। ঐ ট্রেন কারো কাছে দু বার পাঠানোর কোনই ইতিহাস নাকি নাই। অতএব সাতপাঁচ আর না ভেবেই উঠে পড়েছিলাম তাতে।
তারপর পরই শুরু হয়েছিল, একদিকে গ্লোবাল অফিস থেকে, আই কিউ, ই কিউ, এ কিউ ইত্যাকার নামের সব মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। দিতে হয়েছে যার সবই অনলাইনে, ঘড়ির কাঁটার সাথে প্রতিযোগিতা করে। অন্যদিকে ফাঁকে ফাঁকে আসছিল পণ্ডিত সাহেবের কাছ থেকে, নানান বিজনেস কেইস। যেগুলো হাতে পাওয়ার দুদিনের মধ্যেই পড়ে শেষ করে, যোগ দিতে হয়েছে পণ্ডিতি টেলিকনফারেন্স। হয়েছে যা গোটা আধা ডজন। মেরে কেটে ওগুলোতে সম্ভবত কোন না কোন ভাবে উতরে গিয়েছিলাম। তাতেই পণ্ডিত সাহেব জানিয়েছিলেন, তার সাথের শেষ আলোচনাটা হতে হবে মুখোমুখি। সে জন্য যেতে হবে দিল্লিতে।এ বিষয়ে ফিলের পরামর্শ নিতেই, সেটিও সে এবারই দেশে যাওয়ার পর সেরে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ চতুর্থ আরেকটি ভিসাও আমাকে এরই মধ্যে নিতে হবে, অথচ আছে হাতে সাকুল্যে আড়াই বড় জোর তিন সপ্তাহ।
এতো সব ভেবে, কপাল ভাল কাজ এগিয়ে রাখার মানসে দুই দিন আগে আমাদের ঢাকার অফিসে যিনি ভিসা সার্ভিস দিয়ে থাকেন, তাকে পাঠিয়েছিলাম পাসপোর্টের কপি, যাতে ঐটি দেখে উনি কিছুটা হলেও আভাস দিতে পারেন, কোন এমব্যাসিতে আমার প্রথম ধন্না দেয়া দরকার। আজ ঘণ্টা কয়েক আগে যখন ঢাকার ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় ছিলাম দুবাইয়ের এমিরেটস লাউঞ্জে, তখনই ঢাকা থেকে ভিসা এক্সপার্ট জানিয়েছিলেন, আমার জন্য সবচেয়ে বেশী ঝামেলা হবে, যেটি পাওয়া সহজ হবে ভেবেছিলাম সেই ভিসাটিই। তা হল ভারতীয় ভিসা। কারণ ২০০৭ সালে আমি যে পাকিস্তান সফর করেছি! এ শুনেই, সাথে সাথে পণ্ডিত সাহেবকে জানিয়েছিলাম আসতে পারছি না আপাতত দিল্লি, ভিসাগত ভজঘটে। আপাতত দিল্লি আমার জন্য আসলেই দূর অস্ত। এ ব্যাপারে দরকার, তার সহযোগিতার।‘এক্সকিউজ মি স্যার, নিড টু ক্লিয়ার ইউর ট্রে। ফ্লাইট উইল সুন স্টার্ট ডিসেন্ডিং টু জিয়া ইন্টার ন্যাশানাল’। এমিরেটস সুন্দরীর এ কথাতেই, পেলাম খোঁজ আমার ঐ দার্শনিক ভূতের ঠিকানা সাকিনের। এ হল মূলত টিকেটাধিকারের বদৌলতে পাওয়া এমিরেটস শ্যাম্পেনের কয়েক পেগের মাঝেজা। তদুপরি দুবাই এয়ারপোটের্র লাউঞ্জেও তো চেখেছিলাম পেগ কয়েক, প্রিয় মার্টিনি রোসো। এই দুইয়ে মিলেই ফেলছে আমার দার্শনিক ভূতের পাল্লায়! সিট সোজা করে বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে, ঢাকায় পা ফেলার আগেই মনে মনে করলাম দ্রুত এবারে আমার ঢাকার ভিসাভিযানের, রিপ্রায়োরিটাইজেশন। প্রাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন মনে হচ্ছে গুরুত্ব যে ভিসার যাই হোক, সবচেয়ে সহজেই যেহেতু পাওয়া যাবে মালয়েশিয়ার ভিসা, অতএব ওখানেই দেব ধন্না আগে। এছাড়া সৌদি ভিসার আবেদন করতে হবে, রিয়াদ থেকে গিউসির সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর, যা পেতে অনেক সময়ই লেগে যায় সপ্তাহ তো অবশ্যই, এমনি কি লাগে দশ বারো দিনও। অতএব চারদিনে মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়ার পর, শরণাপন্ন হব কলোনিয়াল প্রভুর এজেন্ট ভি এফ এস এর এবং সবশেষেই যেতে হবে ফরজে আইন, সৌদি ভিসার জন্য। তবে মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়ার পরই যদি গিউসি সবুজ সঙ্কেত পাঠায়, তবে সাথে সাথেই করে দেব সৌদি ভিসার আবেদন, সেক্ষেত্রে ব্রিটিশ চলে যাবে তিন নম্বরে। বাহ, চমৎকার ল্যান্ডিং করেছেন পাইলট। সামনের দিকে থাকার কারণে, আগেভাগে নামার সুযোগ আছে। অতএব মাথার উপরের বাংক থেকে ব্যাগ নামিয়ে, হাতের ফোনটিকে সজাগ করে, এগুলাম দরজার দিকে। বোর্ডিং ব্রিজ ধরে কিছুটা এগুতেই পেলাম পলির গন্ধমাখা চমৎকার হিম হিম উত্তরে হাওয়ার পরশ। বোর্ডিংব্রিজের কোন ফাঁক দিয়ে যে সে ঢুকেছে? জানি না। বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে গাই মনে মনে তাই– ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি’। কী ব্যাপার, দেশের মাটিতে পা রাখতে না রাখতে ফোন এলো নাকি মরু থেকে?
ওহ না। ভালই তো মনে হচ্ছে টেলিপ্যাথি! ফোনের পর্দায় দেখছি লাজুর নাম। দ্রুত ফোন ধরে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো অভ্রর কচিকণ্ঠ -‘বাবা, তুমি এখন কোথায়? তাড়াতাড়ি চলে আসো। আমি তোমার জন্য বসে আছি!’
লেখক : প্রাবন্ধিক, ভ্রমণসাহিত্যিক।
