Published on
:
2 min read
বর্ধমান শহরে নিত্য যানজটে বিরক্ত সাধারণ মানুষ। স্টেশন রোড থেকে কার্জন গেট পৌঁছতেই চরম নাকাল হতে হয়। রাস্তা জুড়ে বাইক, চার চাকা গাড়ির সঙ্গে থাকে টোটো। যানজটের কারণে গাড়ির গতিও কার্যত কমে যায়। পূর্বতন সরকারের আমলে শহরের এই যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য আবেদন করেও কোনও সুরাহা হয়নি। বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস কেটে গেলেও শহরের যানজটের হাল ফেরাতে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল। এ বার যানজটমুক্ত করতে উদ্যোগী হলো বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র।
বর্ধমান জেলার যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ও পার্কিং ব্যবস্থা সঠিক করতে সোমবার শহরের ট্যাফিক অবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। বর্ধমানে বি সি রোডের অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে যেমন যানজট দেখা যায়, তেমনই ড্রেনগুলির অবস্থা বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয়নি ড্রেনগুলি। এ বার শহরকে যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন রাস্তায় টোটো ওয়ান ওয়ে করার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এ ছাড়াও টোটোতে কিউআর কোড বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক ও প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই যানজট মুক্ত করার ম্যাপিং। বাইক, চার চাকা গাড়ি, টোটো, সাইকেল-সহ বিভিন্ন যানবাহন কী ভাবে শহরে ভালো ভাবে চলাচল করবে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন রাস্তায় পার্কিং ব্যবস্থা করা হবে, কোন রাস্তায় বেশি যানজট হচ্ছে সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বিধায়ক তথা শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, বর্ধমান জেলাকে যানজট মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। পাশপাশি, তিনি পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষের জন্য তারা কোনও কাজ করেনি। নিয়ম-কানুন কিছুই মানেনি, সাধারণ মানুষকে কোনও পরিষেবাই দেয়নি। যানজটমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথাও হয়েছে।
জলের ট্যাঙ্ক , চার্চ-সহ যে জায়গাগুলি পুরসভার আয়তায় রয়েছে সেগুলি ফ্রি জ়োন করে দেওয়া হবে, সেখানেই এর পর থেকে গাড়ি, সাইকেল পার্কিং করতে হবে। যদি এর অন্যথা হয় তা হলে সেই ব্যক্তির গাড়ি সিজ় করা হবে এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়াও কালীপুজোর আগেই ম্যান্ডেলা পার্কে পার্কিং জ়োন চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই কাজ শুরু হয়েছে।
