সমস্যা মেটায় প্র্যাকটিসে নেমে পড়লেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। এমনকী চোটের তালিকায় থাকা বিদেশি ফুটবলার নাচো পর্যন্ত এদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেন। ইমামি ইস্টবেঙ্গল থেকে কোম্পানি বদলে ইস্টবেঙ্গল এফসির নামে নতুন কোম্পানি হওয়াতেই সমস্যায় পড়ে যায় লাল-হলুদ। এই মরশুমের শুরুতে ফুটবলারদের সঙ্গে যখন ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি হচ্ছে, সেই সময়েও ইমামি ইস্টবেঙ্গল কোম্পানি ছিল। ফলে ফুটবলারদের সঙ্গে সেই কোম্পানির নামেই চুক্তি হয়।
পরবর্তী ক্ষেত্রে ইমামির সঙ্গে ইনভেস্টর হিসেবে ক্লাবের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর যখন নতুন কোম্পানি গঠন হচ্ছে, তখন নতুন কোম্পানি ঠিকভাবে তৈরি হওয়ার আগেই ক্লাবের অ্যাকাউন্ট থেকে কোচ-ফুটবলারদের পেমেন্ট করে ক্লাব। যা নিয়ে পরে সমস্যাও তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিদেশি ফুটবলারদের অ্যাকাউন্ট নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। যে কারণে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৭৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৫ টাকা থাকলেও অ্যাকাউন্ট জনিত সমস্যার জন্য ফুটবলারদের টাকা পাঠাতে পারছিল না ক্লাব। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন না পেয়ে ফুটবলাররা মাঠে এসেও প্র্যাকটিস বয়কট করেন। বেতনজনিত সমস্যায় মাঝে মধ্যেই ফুটবলারদের অনুশীলন বন্ধ করার কথা কয়েক বছর ধরে মহামেডানে শোনা যাচ্ছিল। বুধবার একই কারণে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেই ঘটনা ভারতীয় ফুটবলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অস্বস্তিতে পড়ে যান লাল-হলুদ কর্তারা। কারণ, বেতনের অভাব নয়। নতুন কোম্পানির অ্যাকাউন্ট জনিত সমস্যার জন্য কোচ-ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে বেতন ট্রান্সফার করতে সমস্যা হচ্ছিল।
সামনেই ইন্ডিয়ান সুপার লিগে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ। তার আগে বেতন সমস্যায় ফুটবলাররা | অনুশীলন বন্ধ করে দেওয়ায়, দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। যে বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে বৃহস্পতিবার সকালেই পৌঁছে যান লাল-হলুদ কর্তারা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে দুপুরের মধ্যেই ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে বেতন চলে যায়। বিদেশি ফুটবলারদের কাছেও বেতন চলে গিয়েছে। ফলে বিকেলেই অনুশীলনে নেমে পড়েন ফুটবলাররা।
লাল-হলুদের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, “ফুটবলারদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। কেউ যদি কর্মী আর নিয়োগকর্তার মতো সম্পর্ক তৈরি করতে চান, তাহলে সেভাবেই হবে। কেউ যদি বেতন না পেলে অনুশীলন না করে, কোনও অসুবিধা নেই। তবে ফুটবলারদের জন্য আমাদের বেতনের কোনও সমস্যা আগেও ছিল না। এখনও নেই। অর্থকরী বিষয়ে ভারত সরকারের যে নিয়ম কানুন রয়েছে, তার বাইরে আমাদের পক্ষে কিছুই করার নেই। ফলে একটা পুরনো কোম্পানি থেকে নতুন কোম্পানি গঠনের যে সময়টুকু লাগা দরকার, সেটা আমাদের দিতে হবে।’ তবে ফুটবলাররা ঠিক সময়ে বেতন না পাওয়ায় নাকি অন্য কোনও কারণে বুধবার অনুশীলন করেননি, জানেন না দেবব্রত সরকার। এদিকে, রশিদ ছাড়া অন্য বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে ইস্টবেঙ্গলে কিন্তু সমস্যা বাড়ছে। ক্লাব কর্তারা তাকিয়ে রয়েছেন কোচ হাবাসের সিদ্ধান্তের দিকে। পারফরম্যান্সে উন্নতি না হলে সেক্ষেত্রে বিদেশি ফুটবলার বদলও হতে পারে লাল-হলুদে। তবে এই বেতনজনিত সমস্যা, শিল্ড ফাইনালে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে কোনও প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাইলেন না ইস্টবেঙ্গল শীর্ষ কর্তা।
