মন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির সফলতা শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বাড়াতে ৩৮ জেলার ১১১ সংসদ সদস্যকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
ডিও লেটারে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্যসম্পদ ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য ইলিশ দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টিনিরাপত্তা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সম্পদ সংরক্ষণে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলছে।
অভিযান চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতে এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচির সফলতা শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন।
ডিও লেটারে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা, অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ইতিবাচক ভূমিকা জেলেদের মধ্যে আস্থা ও সামাজিক সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে পারে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করা সম্ভব।
অভিযান বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় নেতৃত্ব, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী।
