ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ নামে এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মান্না শেখ (২৭) বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি করা হয়। পরেরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের পেছনে অবস্থিত অব্যবহৃত ক্যানটিন কক্ষের তালা ভেঙে মালামালগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজে মালামাল নিয়ে বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ পরে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানান, চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মান্না শেখ আত্মগোপনে চলে যান। অভিযোগ পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গতকাল রোববার বিকেলে তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হলে আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান।’
