রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নজরদারির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে পরিবারের জন্য সহায়তা কার্ড ও কৃষকদের জন্য কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং তথ্যভান্ডার তৈরির নামে বিপুল অর্থ বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক পোস্টে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করেন।
হাসনাতের ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা নয়; বরং দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থে কাজ করা। বিরোধী দলের ওপর নজরদারির বার্তা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের চর্চা অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বলে তাঁর দাবি।
সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্ড কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে বড় প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব প্রকল্পে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আন্তঃবাহিনী পরিচালিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে আড়ালে দলীয় ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
কার্ড তৈরির ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। তাঁর দাবি, বেসরকারি খাতে সাধারণ ব্যাংক কার্ড তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব হলেও পরিবারের জন্য সহায়তা কার্ড ও কৃষক কার্ড তৈরিতে প্রতিটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৬৫ টাকা ধরা হচ্ছে। এই ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উপকারভোগীদের তথ্যভান্ডার তৈরির নামে দুই হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি জানান।
হাসনাতের মতে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিদ্যমান তথ্য, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিলের হিসাব, মুঠোফোন ব্যবহারের তথ্য এবং পরিবারের আয়-ব্যয়ের জরিপ কাজে লাগিয়ে দরিদ্র মানুষের একটি কার্যকর তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর দাবি, নতুন করে বড় প্রকল্প নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান তথ্য হালনাগাদ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কম খরচে এ কাজ করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হলে ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত অভিযোগ করেন, আগে রাষ্ট্রীয় ও আধা-সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থের বাইরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পদ নয়। সরকার ও বিরোধী দলসহ দেশের সব নাগরিকের সেবা করাই এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাসনাত আবদুল্লাহর এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে কার্ড প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থের অপব্যবহার কিংবা গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগগুলো তাঁর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
