Published on
:
2 min read
শহরের পুজো প্যান্ডেল হপিংয়ের দীর্ঘ ক্লান্তি আর কোলাহল কাটিয়ে বিজয়া দশমীতে একটু অন্যরকম ও রোমাঞ্চকর পরিবেশে দিন কাটাতে চাইলে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি এককথায় অসাধারণ গন্তব্য। বিশেষ করে দশমীর দিনে ইছামতী নদীতে ভাসান দেখতে রাজ্য, দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান এখানে। কলকাতা থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই সীমান্তবর্তী শহরটি ছোট ছুটি কাটানোর জন্য আদর্শ।
টাকিতে এলে কী কী দেখবেন?
১. ইছামতী নদীতে ভাসান
টাকির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিজয়া দশমীর দিন ইছামতী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন। এই নদীর মাঝ বরাবর রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা। দশমীর দিনে দুই বাংলার বহু প্রতিমা নৌকা বা লঞ্চে করে ইছামতী নদীতে ভাসানের জন্য নিয়ে আসা হয়। নদীর বুকে দুই পাড়ের মানুষের এই মিলনমেলা, একে অপরকে হাত নেড়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানো এবং চোখের জলে মাকে বিদায় দেওয়ার এই অনন্য দৃশ্য সচক্ষে দেখা এক পরম প্রাপ্তি।
২. ইছামতী নদীর বুকে নৌকা বিহার
দশমীর দিন বা পুজোর দিনগুলিতে ইছামতীর শান্ত বুকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। রাজবাড়ি ঘাট বা অন্যান্য ঘাট থেকে ছোট নৌকা বা ভেসেল ভাড়া পেয়ে যাবেন। নদীর মাঝখানে জলধি পার হয়ে খুব কাছ থেকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে দেখার অভিজ্ঞতা বেশ রোমাঞ্চকর।
৩. মিনি সুন্দরবন ও গোলপাতার জঙ্গল
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি টাকির অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। নদীর পাড়েই গড়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট ম্যানগ্রোভ জঙ্গল বা ‘মিনি সুন্দরবন’। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে তৈরি উঁচু বাঁধানো কংক্রিটের সেতু বা ক্যানোপি ওয়াক ধরে হাঁটার সময় চারপাশের সবুজ ও শান্ত পরিবেশ মন জুড়িয়ে দেবে।
৪. টাকি রাজবাড়ি ও রাজবাড়ি ঘাট
পুরোনো দিনের স্থাপত্যের ছোঁয়া এবং জমিদার আমলের ইতিহাসের গন্ধ মাখা টাকির প্রাচীন রাজবাড়ি এবং ইছামতীর ঠিক পাড়েই অবস্থিত রাজবাড়ি ঘাটটি ঘুরে দেখার মতো একটি জায়গা।
৫. কুলিয়া বা কুলেশ্বরী কালীমন্দির
শতবর্ষ প্রাচীন এই ঐতিহাসিক কালীমন্দিরটি টাকির অত্যন্ত পবিত্র ও জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় স্থান। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভক্তরা এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরের শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ আপনার মনকে ভরিয়ে দেবে।