দলকে সাফল্যের রাস্তায় ফেরাতে মরিয়া মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষ। বদলে ফেলা হয়েছে কোচ। অধিনায়ক পরিবর্তনও সময়ের অপেক্ষা। নীতা অম্বানীরা ঢেলে সাজাচ্ছেন দলের কোচিং টিমকে। পরীক্ষিত এবং সফলদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে সচিন তেন্ডুলকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে। টানা ব্যর্থতার পরও কি সচিনকে অস্থায়ী সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে রেখে দেওয়া হবে?
মাহেলা জয়বর্ধনেকে সরিয়ে কোচ করা হয়েছে কায়রন পোলার্ডকে। ২০১০ সাল থেকে মুম্বইয়ের হয়ে আইপিএল খেলার পর গত চার বছর ধরে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রাক্তন অলরাউন্ডার। দলের পরিবেশ, সংস্কৃতি সব কিছুই জানা তাঁর। তাই পোলার্ডকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত মরসুমের ব্যর্থতা এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় হার্দিক পাণ্ড্যের নেতৃত্ব হারানো একরকম নিশ্চিত। ভারতীয় দলের অলরাউন্ডারকে সম্ভবত দলেই রাখবেন না অম্বানীরা। শোনা যাচ্ছে, আবার রোহিত শর্মাকে অধিনায়ক করতে পারে মুম্বই।
দলের ডিরেক্টর অফ পারফরম্যান্স করে নিয়ে আসা হয়েছে জ়ুবিন ভারুচাকে। তিনি ২০০৮ থেকে টানা ২০২৬ পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন জোরে বোলিং কোচ হতে চলেছেন স্টেফানোস জোন্সকে। তিনিও এর আগে রাজস্থানের সঙ্গে কাজ করেছেন। নীতীশ রেড্ডি, অরুন্ধতী রেড্ডি, অর্জুন তেন্ডুলকরদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জোরে বোলারদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্রিকেট বিশ্বে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত জোন্স।
এই পরিস্থিতিতে সচিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ২০০৮ সালে আইপিএলের শুরু থেকেই সচিন মুম্বইয়ের সঙ্গে যুক্ত। শুরুতে তিনি মার্কি ক্রিকেটার হিসেবে দলে ছিলেন। ২০১৩ সালে আইপিএল জেতার পর তিনি অবসর নেন। ২০১৪ সালে তাঁকে দলের আইকন বা প্রধান মুখ হিসেবে নিয়োগ করেন অম্বানীরা। তখন থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই দায়িত্বেই দেখা গিয়েছে সচিনকে। মুম্বইয়ের অন্যতম সাপোর্ট স্টাফ সচিন। তবে তাঁর দায়িত্ব স্থায়ী নয়। কিছুটা ঐচ্ছিক বা অস্থায়ী ধরনের। মুম্বইয়ের সব ম্যাচে উপস্থিতও থাকেন না। প্রয়োজন মতো ক্রিকেটার বা অন্য কোচদের পরামর্শ দেন। সূত্রের খবর, গত দু’বছর সচিনের এই ভূমিকার গুরুত্বও খানিকটা কমেছে।
মনে করা হচ্ছে, পোলার্ড কোচ হওয়ার পর সচিনকে আর এই ভূমিকায় না-ও দেখা যেতে পারে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষ বা সচিন এ নিয়ে কিছু জানাননি। তবে মুম্বইয়ের একটি সূত্র অনুযায়ী, অর্জুনকে দল থেকে ছেঁটে ফেলে সচিনকে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন মুম্বই কর্তৃপক্ষ। বিচক্ষণ সচিনেরও বিষয়টি অজানা নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌজন্য বজায় রেখে কোনও পক্ষই দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। আগামী মরসুমের আগে সচিন নিজেই সরে যেতে পারেন মুম্বইয়ের আইকনের দায়িত্ব থেকে। তেমন হলে ১৮ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটবে।
