Published on
:
2 min read
মোবাইল খুলে ইনস্টাগ্রামে স্ক্রোল করতে করতে হঠাৎ একটা ৩০ সেকেন্ডের রিলস সামনে এলো। ভিডিয়োতে এক ইনফ্লুয়েন্সার গম্ভীর মুখে বলছেন, ‘If they wanted to, they would have’ কিংবা ‘How a high-value partner should treat you’। ব্যাস, মুহূর্তের মধ্যেই যেন মাথার ভিতরে চিন্তার সঙ্গে ভিডিয়োর কথাগুলো মিলে যায়। আর তার পর থেকেই শুরু হয় নিজের পার্টনারের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ‘অডিট’ বা তুলনা! কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, সোশ্যাল মিডিয়ার এই ৩০ সেকেন্ডের রিলস বা গ্র্যান্ড সারপ্রাইজ়ের ভিডিয়োগুলো কি সত্যিই আপনার সম্পর্কের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে, নাকি অহেতুক অশান্তির জন্ম দিচ্ছে?
ভারতের একটি বিখ্যাত ডেটিং অ্যাপ-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মেট্রো শহর ও ছোট শহরের ২২ থেকে ৩৮ বছর বয়সের প্রায় ১০,০০০ জন তরুণ-তরুণী উপর করা এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে রিলস ও সোশ্যাল মিডিয়ার রিলেশনশিপ টিপসের নানাবিধ প্রভাব। মনোবিদরা এ বিষয়ে কী বলছেন?
১. ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োতে কোনও একটি সম্পর্ক যে ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, বাস্তবে পরিস্থিতি সব সময় তেমন থাকে না। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫ বছরের বেশি ৪,৬৯৪ জন উত্তরদাতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়া রিলসের প্রতিটি নিয়ম সব জুটির উপর অন্ধ ভাবে চাপিয়ে দিলেই সমস্যা বাড়ে। মনোবিদরা বলছেন, বেশির ভাগ মানুষই ভুলে যান যে প্রতিটি সম্পর্কের একটি নিজস্ব প্রেক্ষাপট থাকে। রিলস দেখে একটা মিসড কলকে কেউ যদি হঠাৎ 'ইমোশনাল নেগলিজেন্স' বা মানসিক অবহেলা ভেবে বসেন, তবে তা ভুল হবে। বাস্তব জীবনে পার্টনারের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।
২. অফিস থেকে ফিরে অনেকেই খানিকটা সময় একলা কাটাতে চান। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬০% পুরুষ অভিযোগ করেছেন, কাজের পর কিছুটা 'স্পেস' বা বিরতি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডের কারণে তাঁদের সরাসরি 'ইমোশনালি আনঅ্যাভেলেবিলিটি' বা অনুভূতির অভাব হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৩৮% অংশগ্রহণকারী মনে করেন, কোনও সারপ্রাইজ বা ডেট প্ল্যান না করতে পারার অর্থ এই নয় যে পার্টনার সম্পর্কে কোনও চেষ্টা করছেন না।
৩. সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩,৩৪৭ জন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়াতে রিলেশনশিপ কন্টেন্ট মূলত ভিউ বা ফলোয়ার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে একাধিক 'রিটেক' নিয়ে তৈরি করা হয়। সম্পর্কের খারাপ দিকগুলো এখানে দেখানো হয় না। এত কিছু জেনেও সাধারণ মানুষ সেই সাজানো অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের স্বাভাবিক জীবনের তুলনা করে ফেলেন। ফলে শান্ত, স্বাভাবিক কিন্তু গভীর ভালোবাসার প্রকাশগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার চাকচিক্যের কাছে ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে।
তবে সবটাই কি খারাপ?
সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন উত্তরদাতারা। প্রায় ৪৮% অংশগ্রহণকারী জানান, রিলসের মাধ্যমে সুস্থ সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। ৩০-এর কোঠায় থাকা ২৭% মহিলাই স্বীকার করেছেন যে, ভালো রিলস মাঝে মাঝে সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করে।
আপনার কী করা উচিত?
পরের বার পার্টনারকে ইঙ্গিতপূর্ণ কোনও রিলস পাঠানোর আগে ভাবুন, সমস্যাটা কি সত্যিই আপনার সঙ্গীর ব্যবহারে, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে? ৩০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো দেখে পার্টনারকে জাজ করার বদলে সরাসরি কথা বলুন। মনোযোগ, স্পষ্ট যোগাযোগ নাকি আশ্বাস, কোনটা আপনার সম্পর্কের এই মুহূর্তে প্রয়োজন!