ক্যারিয়ারের সেরা সময় বার্সেলোনাতেই কাটিয়েছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিনের সেই প্রিয় ক্লাবে কাটানো স্মরণীয় দিনগুলোর কথা আবারও স্মরণ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। স্পেনে এসে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণের আগে বার্সেলোনাকে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে সঙ্গে নিয়ে স্পেনের ওভিয়েদো শহরে পৌঁছান মেসি। সেখানে ভক্তদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। খেলাধুলায় অসামান্য সাফল্যের পাশাপাশি নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট পাচ্ছেন তিনি।
ওভিয়েদোর হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় অবস্থানকালে স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুরস্কারটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ৩৯ বছর বয়সি মেসি। তার কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, পুরস্কারটি পাওয়ার বিষয়ে তার প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিও ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী।
গত আগস্টে মারা যাওয়ার আগে ছেলেকে এই পুরস্কার গ্রহণের জন্য স্পেনে যাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছিলেন হোর্হে। ব্যস্ত সূচির কারণে সেখানে যাওয়া কঠিন হতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বাবার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। বাবার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি পেয়ে তিনি নিজেও খুব আনন্দিত। তার বাবা পুরস্কারটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং মেসি যেন এটি গ্রহণ করতে যান, সে জন্য জোর দিয়েছিলেন। বাবার সেই আনন্দের কথা মনে করে মেসির বিশ্বাস, তিনি বেঁচে থাকলে এই মুহূর্তটি উপভোগ করতেন।
বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির সম্পর্কও গভীর আবেগে জড়ানো। ২০০০ সালে ক্লাবটির যুব দলে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠেন তিনি। বার্সার জার্সিতে একের পর এক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও সমৃদ্ধ হয়েছে তার ক্যারিয়ার। তবে ২০২১ সালে ক্লাবটির আর্থিক সংকটের কারণে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বার্সেলোনা ছাড়তে হয় তাকে।
ক্লাবটির হয়ে কাটানো সময়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মেসি জানান, তাদের দলটি অনেক শিরোপা জিতেছে এবং মাঠে নিজেদের খেলা ও সাফল্য উপভোগ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সব অর্জনের পাশাপাশি একসঙ্গে কাটানো সময়ও ছিল তার জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।
বার্সেলোনা তার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নের উত্তরে মেসি বলেন, বিষয়টি অল্প কথায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে ক্লাবটিকে তিনি নিজের জীবনের ক্লাব হিসেবেই দেখেন। মেসির এই বক্তব্যে স্পষ্ট, খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় গড়ে দেওয়া বার্সেলোনার সঙ্গে তার সম্পর্ক আজও আবেগ ও ভালোবাসায় অটুট।