অনুষ্ঠানে কাঠমান্ডুতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, নেপালের সাহিত্যাঙ্গনের প্রতিনিধি, যুবনেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা নেপালের সাবেক কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রহমান লালন সাঁইয়ের চিরায়ত দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে একে বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, লালনের গান ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে প্রচলিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তাঁর সংগীত ও দর্শন মানবতাবাদী চিন্তা, সাম্য এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে মহিমান্বিত করেছে।
লালনের কালজয়ী গানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, লালনের শিক্ষা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালি সমাজ ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লালনের গান ও বাউল ঐতিহ্যের সর্বজনীন আবেদন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও এ ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে।
বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, উভয় দেশই তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চর্চা থেকে শক্তি অর্জন করে। সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন করেন এবং তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেন। এসব পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এ ছাড়া লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করা হয়। আয়োজনটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
The post বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন appeared first on ভোরের চেতনা.
