রবীন্দ্রনাথকে বাংলাদেশের বিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের বক্তব্যের সমালোচনা করে লেখক-চিন্তক সলিমুল্লাহ খানের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ফারুক মঈনউদ্দীন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সলিমুল্লাহ খানের এমন অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ জানতে চান।
ফারুক মঈনউদ্দীন স্ট্যাটাসে লিখেন, রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে নির্দেশিত হয়ে কালি দেওয়া নারী, মহিলা কিংবা রমণী (ফরহাদ মজহারের "কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী" কবিতার কথা স্মরণে রেখে) যা বলেছেন, তা মোটামুটি সলিমুল্লাহ খানের বয়ানের কাছাকাছি। এই অশিক্ষিত মহিলা মোবাইল ফোন থেকে দেখে দেখে হাস্যকর বয়ান দিচ্ছিলেন ('দিচ্ছিলেন' ধরনের সম্মানসূচক শব্দটা ব্যবহার করতে চাইছিলাম না। এটা আমাদের শিখিয়েছে "প্রথম আলো।" একজন ধর্ষণ মামলার নিশ্চিত আসামীকেও "তিনি" বলতে হবে।)
মহিলা এমন কথাও বলছিলেন যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিলেন। এই অশিক্ষিত মহিলা জানেন না (যিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির নামও জানেন না, তার কাছে ওটা "বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।") যে রবীন্দ্রনাথ মারা গিয়েছিলেন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের তিরিশ বছর আগে।
অথচ তাকে শিখিয়ে দেওয়া বার্তা ফোনে দেখে পড়তে গিয়ে তিনি জানালেন যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের বিরেধিতা করেছিলেন। সলিমুল্লা খান যখন থেকে দৃকের শহীদুলের স্টান্টবাজীর মতো কাঁধে হাজীর রুমাল ব্যবহার করা শুরু করলেন, তখন থেকেই আমার মন কু-ডাক দিচ্ছিল।
তিনি আরও লিখেন, আমরা দুজনই ছিলাম চিটাগাং কলেজের ছাত্র এবং দুজনই কলেজের সোহরাওয়ার্দি হোস্টেলে থাকতাম। ১৯৭৫ সালে তিনি তৎকালীন কুমিল্লা বোর্ডে মানবিক বিভাগ থেকে ফার্ষ্ট স্ট্যান্ড করেছিলেন। পরের বছর আমি একই হোস্টেল থেকে একই বিভাগ থেকে সেকেন্ড স্ট্যান্ড করেছিলাম। সেই সুবাদে তিনি আমাকে ছোটভাই সুলভ স্নেহের দৃষ্টিতে দেখেন। গুণমুগ্ধ আমিও তাকে বড়ভাই হিসেবে দেখি। তাই বলে এমন নয় যে আমি সলিমুল্লা খানের সমকক্ষ।
আমি ছিলাম নিতান্তই মিডিওকার একজন, অন্যদিকে সলিমুল্লা খান তখন থেকে আজ পর্যন্ত তার ফটোগ্রাফিক মেমোরির কারণে একজন সেলিব্রিটি। ইন্টারমেডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষার আগে একদিন তার রুমে গিয়ে তার হাতে দেখেছিলাম কবি বিষ্ণু দের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ "রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশে।" সেই সলিমুল্লা খান, যিনি বিষ্ণু দের কবিতা পড়তেন কিংবা পছন্দ করতেন, তিনি কতিপয় স্টান্টবাজের গুরু হয়ে রবীন্দ্রনাথকে প্রতিপক্ষ বানাবেন, কখনোই ভাবিনি।
ফারুক মঈনউদ্দীন স্ট্যাটাসের শেষে লিখেন, আজ তাকে নিয়ে অনেক আজেবাজে কথা হয়। বলা হয়, যেমন, তিনি পরিচিত কতিপয় মেধাহীনের মতো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানান বিতর্কিত কথা বলেন। আমার বিশ্বাস হতে চায় না, কারণ, তিনি অনেক মেধাবী। তার ফটোগ্রাফিক মেমোরি এবং তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণী ক্ষমতা আমাদের খুব বেশি লোকের নেই। হায়, তিনি কেন যে বিপথগামী হলেন, জানি না।
এসএন/
