চট্টগ্রামে ইমামদের প্রশিক্ষণ ভাতা থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
- আপডেট সময় : ১০:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
চট্টগ্রামের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের ভাতা থেকে অর্থ কম দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি ব্যাচে প্রায় এক লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
অভিযোগে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক কৃষিবিদ আনিসুজ্জামান, প্রশিক্ষণ সহকারী কামরুজ্জামান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন) শাহ নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি ব্যাচে প্রায় ১০০ জন ইমামের প্রত্যেকের ভাতা থেকে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম দেওয়া হয়। অবশিষ্ট অর্থ একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, প্রশিক্ষণের শেষ দিনে ইমামদের জানানো হয়, তাঁদের ভাতা বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এরপর তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। বাড়িতে পৌঁছে অনেকে প্রাপ্য অর্থের চেয়ে কম টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। দূরে চলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইমামদের ভাতার অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর বিকাশে টাকা পাঠানোর তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকায় কয়েকজন ইমামের প্রাপ্য অর্থ কম দেখিয়ে অবশিষ্ট টাকা নির্দিষ্ট কিছু বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের ভাতা বাবদ ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০০ টাকা ব্র্যাক ব্যাংকে পাঠানো হয়। পরে বিকাশে অর্থ স্থানান্তরের তালিকায় নির্দিষ্ট কয়েকটি অ্যাকাউন্টে মোট এক লাখ টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এ অর্থের প্রকৃত প্রাপক কারা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্রটির দাবি, দেশের আটটি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতেও একই ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক ও বিকাশের লেনদেনের নথি, ভাতা প্রদানের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর মালিকানা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া শাহ নজরুল ইসলাম জাতীয় ইমাম সমিতির মহাসচিব পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির এবং ইমামদের কল্যাণের কথা বলে দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
