নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় জানা গেছে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ফরাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাস ড্রাইভার মো. সোহেল রানা (৪০), রাজশাহীর বাগমারা থানার চায়পাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদ আলী গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), ঝিনাইদহের বরাতলা গ্রামের জাকিরের ছেলে ট্রাক ড্রাইভার মো. কালাম (৫০), শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ডুবি সাহাবুর গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাল মোল্লা (৪৫), শরীয়তপুরের জাজিরা থানার কাজির হাট গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে মো. শাহিন (৩৫), শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ডুবি সাহাবুর গ্রামের ইউনুসের ছেলে সোহাগ (৩০), শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ডুবি সাহাবুর গ্রামের আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ (৭০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের আজাহার হাওলাদারের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৫) এবং নওগাঁর সাপাহার থানার কলমুডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাজ্জাদের ছেলে রাসেল (৩৫)।
নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক ১৪ জনের মৃত্যুর কাথা জানালেও এখন পর্যন্ত ১২টি মরদেহ বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন ও নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তারা।
এদিকে, নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
