ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া তাজপুর এলাকায় রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মো. সাকিব আল হাসানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অভিযান চলাকালে নিখোঁজ শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিয়মিত প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতেন অভিযুক্ত সাকিব আল হাসান। একপর্যায়ে শিশুটির পরিবার বিষয়টি সাকিবের অভিভাবকদের জানালে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ওই পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দিতে শুরু করেন। এর জের ধরে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার দিকে শিশুটি বাড়ি থেকে বের হলে সড়কের পাশ থেকে সহযোগীদের সহায়তায় একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ জঘন্য ঘটনার পর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারিক নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ অক্টোবর ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ও ৯(১) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে প্রধান আসামিসহ জড়িতরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল ঈশ্বরগঞ্জে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাকিব আল হাসানকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে অপর একটি টিমের অভিযানে নান্দাইল থেকে অপহৃত শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।
