Published on
:
1 min read
বাংলার দুর্গাপুজো মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়, শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য উদ্যাপন। সেই বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেই মুম্বইয়ের মাটিতে অন্য মাত্রা দিল কান্দিভলির লোখন্ডওয়ালায় আয়োজিত কৃষ্টি দুর্গাপুজো। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টিকে শ্রদ্ধা জানাতে এ বার সিনেমাকেই মণ্ডপের মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নিয়েছে আয়োজক সংস্থা।
‘দ্য ওয়ার্ল্ড অফ রে: আ ট্রিবিউট টু সত্যজিৎ রে’—এই নামেই সাজানো হয়েছে বিশেষ মণ্ডপ। সেখানে পুজো দেখতে আসা দর্শকরা শুধু দেবী দুর্গার দর্শনই করবেন না, বরং ফিরে দেখার সুযোগ পাবেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া একাধিক স্মরণীয় ছবির দৃশ্যও।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সত্যজিৎ রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সিনেমার ভাষা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্র নির্মাণ এবং জীবনকে দেখার নিজস্ব ভঙ্গি আজও দর্শককে সমান ভাবে আকৃষ্ট করে। সেই সৃষ্টির জগতকেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকরা।
‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘চারুলতা’ এবং ‘নায়ক’-এর মতো ছবির অনুষঙ্গ জায়গা পেয়েছে এই বিশেষ ভাবনায়। সত্যজিতের ছবির সঙ্গে যাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচয়, তাঁদের কাছে এই মণ্ডপ হয়ে উঠতে পারে নস্ট্যালজিয়ায় ফেরার জায়গা। আবার নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এই উদ্যোগ।
এ বার ২২ বছরে পা দিয়েছে কৃষ্টি দুর্গাপুজো। নিজেদের পুজোকে ঘরোয়া আবহের উৎসব হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন আয়োজকরা। তবে এ বারের ভাবনায় সেই পরিচিত বাঙালিয়ানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের উদ্যাপন।
